ঘানার নদীতে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৪, ০৭:০৫ এএম

২০৩০ সালের মধ্যে ঘানার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে উৎপাদন করতে চায় দেশটির সরকার। এ লক্ষ্যে ঘানার এক নদীতে পশ্চিম আফ্রিকার প্রথম ভাসমান সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। দেশটির পশ্চিমে ব্ল্যাক ভল্টা নদীর ওপর বসানো এই সোলার প্যানেলের আকার প্রায় পাঁচটি ফুটবল মাঠের সমান। একটি ভাসমান অবকাঠামোর ওপর প্যানেলগুলো বসানো আছে। ওই অবকাঠামোর ওপর হাঁটার পথও আছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, ভূমিতে থাকা প্যানেলের চেয়ে ভাসমান সোলার প্যানেলের কিছু সুবিধা আছে। এগুলো জায়গা কম নেয়, আর একটি আরেকটির চেয়ে অল্প দূরত্বে বসানো যায়। ভাসমান সোলার প্যানেল ওপর ও নিচ থেকে পাওয়া আলো দিয়ে শক্তি উৎপাদন করে।

ডয়চে ভেলে বলছে, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভাসমান সোলার প্যানেল থেকে সর্বোচ্চ ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়। কাছের ওয়েঞ্চি শহরের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের জন্য এটি যথেষ্ট।

প্রকৌশলী ডেবোরাহ আডজেই বলেন, ‘এখানে কাজ করায় আমার অনেক সুবিধা হয়েছে। পুরুষ প্রাধান্য এই কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে পেরে আমি খুশি। কর্র্তৃপক্ষের কৌশলের কারণে মেয়েদের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। এখানে কাউকে বুলিং করা হয় না, কেউ নিজেকে উপেক্ষিত মনে করেন না। এখানে এমন পরিবেশ বিদ্যমান যেখানে সবার কথা শোনা হয়। এখানে যৌন হয়রানি সহ্য করা হয় না, কারণ এখানকার নিয়মকানুন খুব কড়া।

তিনি জানান, আমাদের প্রকল্পটি নিয়ে মানুষের মধ্যেও কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া নেই। অথচ এই এলাকার বুই জল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ আছে।

তিনি জানান, বুই জল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ ২০১৩ সালে শেষ হয়েছিল। তবে বাঁধের কারণে পাশের জাতীয় উদ্যানের এক-পঞ্চমাংশ ও উর্বর কৃষিজমি বন্যায় ডুবে গিয়েছিল। বাতোর আকানইয়াক্রোম গ্রামসহ আট সম্প্রদায়ের এক হাজারের বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছিল। ফলে তাদের জীবিকা নির্বাহে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। তবে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে তেমন কোনো ঝুঁকি নেই। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত