জাতিসংঘের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ০৬:০৯ এএম

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এখান জনগণের জন্য গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। ঐতিহাসিক সময়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে পুনর্গঠনের ও পুনরুদ্ধার এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকারকে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান বরিগ উনমন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকা এসেছি, তবে সাম্প্রতিক সহায়তায় এবং অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের জন্য আসিনি। আমরা তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি।’ তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার তদন্ত কী প্রক্রিয়া হতে পারে, তা বুঝতে ঢাকায় এসেছে জাতিসংঘের কারিগরি প্রতিনিধিদল। ঢাকায় পৌঁছেই এই প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের মধ্য দিয়ে তাদের কাজ শুরু করে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান বরিগ উনমনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল সাত দিনের জন্য গতকাল ঢাকায় আসে। প্রথমেই তারা পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ সম্পর্কে জাতিসংঘ আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণসমাজকে সহযোগিতা দিতে চায় জাতিসংঘ। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।

গতকাল অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকের পর গোয়েন লুইস বলেন, ‘তরুণ সম্প্রদায়কে কীভাবে সহায়তা করা যায়, বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রোগ্রাম নিয়ে কথা হয়েছে। সমাজকল্যাণ প্রোগ্রাম নিয়ে কথা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সংস্কার নিয়ে কথা হয়েছে।’

রিয়াজ হামিদুল্লাহের সঙ্গে প্রথম বৈঠক প্রসঙ্গে গোয়েন লুইস বলেন, ‘জাতিসংঘ কান্ট্রি টিম এবং এখানে কর্মরত সব জাতিসংঘ সংস্থার প্রতিনিধি এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে এখানে আসবে তার (রিয়াজ হামিদুল্লাহ) সঙ্গে কথা বলতে এবং জানাতে তারা কী কাজ করছে, সরকারের অগ্রাধিকার কী এবং জাতিসংঘ কী করতে পারে, সেটি জানতে।’

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করা প্রতিনিধিদলটি মূল তদন্ত দল নয়। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল কত দিন কাজ করবে, সরকারের প্রত্যাশা কী এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করবে।

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন পূর্ণ তদন্ত করবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তদন্ত দল কর্মপরিধি কতটুকু হবে, সেটির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে।’

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয় এ নিয়ে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার অফিসের একটি দল অন্তর্বর্তী সরকার এবং অন্য অংশীজনদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার জন্য ২২ থেকে ২৯ আগস্ট ঢাকা সফর করবে।’

এতে আরও বলা হয়, এ সফরের উদ্দেশ্য হলো মানবাধিকার উন্নয়নে সহায়তায় অগ্রাধিকার অনুধাবন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ, এই সফরটি তদন্ত নয় বরং এই সফরকালে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অস্থিরতার আলোকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হবে।’

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় জানায়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সফর হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়ার বিশদ বিবরণ চূড়ান্ত হয়ে গেলে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে তদন্ত পরিচালনা করার জন্য আগামী সপ্তাহগুলোতে একটি পৃথক অনুসন্ধানকারী দল পাঠানো হবে।

দলটি তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের সফরকালে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ও সুশীল সমাজের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত