সিঙ্গাপুর বসেই যেভাবে তুরস্কের ভিসা পান বেনজীর

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ১১:০৪ এএম

গণমাধ্যমে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের পর পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সপরিবারে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যান। পুলিশের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে সেখানে বসেই পেয়ে যান তুরস্কের ভিসা। পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ যা করেছেন, তা ছিল কল্পনাতীত। তার নানা অপকর্মে পুলিশের অন্তত ১০ শীর্ষ কর্তা সহায়তা করেছেন। তারা অতিরিক্ত আইজিপি, উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার (এসপি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা। আইজিপি থাকাকালে তারা নানাভাবে বেনজীর আহমেদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছিলেন।

জানা গেছে, গত ৪ মে বেনজীরকে সিঙ্গাপুর পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী এক মন্ত্রী ও দলটির নেতা। এ জন্য ঘুষ নেন সোয়া লাক ডলার। 

পুলিশ সদর দপ্তরের এ কর্মকর্তা বলেন, বেনজীর আহমেদ সিঙ্গাপুর যাওয়ার পর ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি বিভাগের দুজন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাকে ফোন দেন। তাদের মাধ্যমে তুরস্কের ভিসা পেতে সহায়তা চান। ওই দুই এডিসি পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারাও বেনজীরকে সহায়তা করার নির্দেশ দেন। তুরস্কের ভিসা নিতে হলে সশরীরে হাজির থাকতে হয় ভিসাপ্রার্থীকে। কিন্তু বেনজীর আহমেদ উপস্থিত না থাকায় সমস্যা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেন। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে ভিডিওকলে দূতাবাসের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন বেনজীর। পরে তাকে তুরস্কে যাওয়ার ভিসা দেওয়া হয়। অনলাইনে ভিসার কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘ওই দুজন এডিসি দীর্ঘদিন পুলিশের গুলশান বিভাগে চাকরি করার সুবাদে সব দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ভালো। তারা ৮-১০টি দূতাবাস ও হাইকমিশন থেকে প্রতি মাসে ভিসা বের করে অর্থ কামান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেনজীর স্যার বিষয়টি অবহিত থাকায় ওই দুই কর্মকর্তাকে কাজে লাগান।’

গত মার্চে একটি জাতীয় দৈনিকে বেনজীরের দুর্নীতির নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর ২৩ মে আদালত তার ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেয়। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের তলব করলেও তারা হাজির হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের তালিকার বাইরেও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের আরও সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের সন্ধান মিলেছে। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরও দুর্নীতির তথ্য মিলছে। সাবেক পুলিশপ্রধানের পাহাড়েও সম্পদের সন্ধান মিলছে। অথচ দায়িত্বে থাকাকালে বেনজীর আহমেদ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জ ও তার শ্বশুরবাড়ির দুই ব্যক্তি তুরস্কে আছেন। তারা একসময় পুলিশ ও র‌্যাব সদর দপ্তরে ঠিকাদারি কাজ করতেন। তারা বেনজীর আহমেদকে দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ কামিয়েছেন।

২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বেনজীরসহ র‌্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওই সময় আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত