বুড়িচংয়ের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পুরো উপজেলা

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৪, ০১:২০ পিএম

পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে গোমতী নদীর পানিতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বাঁধ ভেঙে গিয়ে ১০০টি উপরে গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। তবে কমছে গোমতী নদীর পানি।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় গোমতীর পানি প্রায় ৩৬ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে নদীর পানিতে বুড়িচংয়ের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত ।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. ওয়ালিউজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বুড়িচং এলাকায় গোমতীর বাঁধ ভাঙার ফলে শক্রবার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে ৩৬ সেন্টিমিটার কমে এখনো বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আশা করছি উজানে বৃষ্টি না হলে ধীরে ধীরে পানি কমে যাবে। তবে এখনো আমরা ঝুঁকিতে রয়েছি। যা খুবই বিপজ্জনক।’

এদিকে অল্প সময়ে মধ্যে ভেসে যায় ওই এলাকার ঘরবাড়িসহ পুরো উপজেলা। এ সময় কিছু এলাকার বিদ্যুতের মিটার পর্যন্ত ডুবে যায়। এতে করে বিদ্যুতায়িত হয়ে যায় কিছু এলাকা। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিদ্যুতের সরবরাহ না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে মোবাইল টাওয়ার গুলো। শনিবার (২৪ আগস্ট)  ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারি দিয়ে টাওয়ারগুলো চালানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে টাওয়ারের ব্যাটারিতেও চার্জ না থাকায় তা বন্ধ রয়েছে। এতে কোথায় ত্রাণের দরকার বা সহযোগিতা প্রয়োজন তা বোঝা যাচ্ছে না। যে কারণে ভেঙে পড়েছেন বুড়িচং উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উপজেলাটি।

কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক জানান, বৈদ্যুতিক তারের কারণে আমরা ত্রাণ নিয়ে যেতে পারছিলাম না। সেগুলো আমাদের গায়ে লেগে যাচ্ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা কোন কাজও করতে পারছি না। কোথায় সহযোগিতা দরকার বা ত্রাণ দরকার আমরা তা বুঝতে পারছি না। এভাবে হুট করে একটা উপজেলার নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়বে তা কল্পনাও করিনি। এদিকে মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। অনেক এলাকায় মানুষ রাতে খাবার খায়নি। তারা খাবারের অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা যেখানেই যাচ্ছি বলছে তারা খাবার পায়নি।

আজ শনিবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নতুন করে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রাম, লড়িবাগ, বারেশ্বর এবং শংকুচাইলসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, বুড়বুড়িয়া এলাকার গোমতী বাঁধ ধসে পড়ার পর থেকে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। দিশেহারা হয়ে পড়েছে দুই উপজেলার মানুষ। বসতি ছেড়ে মানুষ ছুটছেন আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে। সময় যত গড়াচ্ছে পরিস্থিতি ততোই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। চারদিকে মানুষের বাঁচার আকুতি শোনা যাচ্ছে। অনেকেই শুধু পরনের কাপড় নিয়ে ঘর ছেড়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রাম, লড়িবাগ, বারেশ্বর এবং শংকুচাইলসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া এলাকার গোমতী বাঁধের একটি অংশে ধসে পানি ঢুকতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই প্লাবিত হয়ে যায় বুড়বুড়িয়া এলাকা।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাহিদা আক্তার বলেন, ‘উপজেলায় ক্রমেই পানি বাড়ছে। নতুন করে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিদ্যুৎ গোলযোগ এবং নেটওয়ার্ক সমস্যায় তিনি সঠিক পরিসংখ্যান জানতে পারেননি। আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। নতুন করে মোট কয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে জানাতে সময় লাগবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৮০টির বেশি গ্রাম পানির নিচে। বিদ্যুতের সকল মিটার পানিতে ভাসছে। এই মুহূর্তে বিদ্যুৎসংযোগ সচল করলেই দুর্ঘটনা ঘটবে। কয়েকটা মোবাইল অপারেটর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমরা বলেছি, পানি কমা ছাড়া বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব নয়। ত্রাণের নৌকাগুলো বিদ্যুতের তারের ওপর দিয়ে যায়। যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সাহায্যকারীদের এমন বিপদে ফেলতে পারি না। পানি কমলেই আমরা সংযোগ দিয়ে দিবো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত