স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার পানির নিচে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশ। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে সড়কে যান চলাচল। প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। গত তিনদিন ধরে ফলে বন্যার পানির কারণে স্রোতে ফেনীর ফতেপুর এলাকার সড়কের কিছু অংশ ভেঙে যায়। চট্টগ্রাম শহরে পানি উঠে যাওয়ায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী গাড়িগুলো প্রবেশ করতে পারেনি । যার কারণে চট্টগ্রাম ও ঢাকার উভয় দিক থেকে যানবাহন চলাচল আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে।
কুমিল্লা অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট খায়রুল ইসলাম জানান, ফেনীর লালপোল এলাকায় মহাসড়কের কিছু অংশ এখনো পানির নিচে, যার কারণে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম এবং ঢাকার দুই প্রান্তেই। এতে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনগুলো রাস্তায় আটকা পড়ে দুভোর্গের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ঢাকা থেকে যারা বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ দিতে যাচ্ছেন তারাও বিপাকে পড়েছেন।
কয়েকজন গাড়ি চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকস্মিক বন্যার কারণে ফেনী অঞ্চলের মহাসড়ক ডুবে যাওয়ার পর থেকে তারা গত দুই দিন ধরে সেখানে আটকা পড়ে আছেন। ট্রাক, মিনি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, বাস, মাইক্রোবাস, জিপ এবং ব্যক্তিগত গাড়ি মহাসড়কে স্থবির হয়ে আছে।
তিনি আরো জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে চট্টগ্রামের দিকে এবং মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পয়েন্ট থেকে ঢাকামুখী উভয় দিকেই ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলছে। আমরা দ্রুতই বন্যার পানি নামার সাথে সাথে ট্রাফিক পুলিশ যানজট নির্মূলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা গত দুই দিন ধরে মাঠে কাজ করছি এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করে রাস্তা চেষ্টা করছি, কিন্তু বন্যার পানি আমাদের প্রচেষ্টায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ পানিতে যানবাহন চলতে পারছে না।
এদিকে ফেনীতে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও, লালপোল থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত পানি এখনো পুরোপুরি নামেনি। বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি রয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা রাস্তার বিভিন্ন স্থানে তাঁবু স্থাপন করে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
মহিপাল হাইওয়ে ওসি কামাল উদ্দিন বলেন, আমরা খবর পেয়েছি সিলোনিয়া নদীর ওপর ফেনীর লেমুয়া ব্রিজটি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তবে ক্ষতি কেমন তা বোঝা যাচ্ছে না কারণ আমরা নিজেরাও পানিতে আটকা পড়ে আছি এবং কোথাও যেতে পারছি না।
তিন দিনেও মেরামত হয়নি ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ
আয়নাঘরের রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ