গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিলেন মাহবুব

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৪, ০৬:১৬ এএম

৫ আগস্ট রাত ১টা। হঠাৎ বিকট গুলির শব্দ। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলে। গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা থানায় আটকেপড়া পুলিশ সদস্যরা রাতে গুলি করতে করতে বের হয়েছিলেন। এ সময় ঘুমন্ত শিশু-কিশোরসহ সবাই ভয়ে ঘরের কর্নারে লুকিয়ে থাকলেও স্থানীয়রা অনেকেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। ওই সময় পুলিশের গুলিতে অনেকেই আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন মাহবুব রহমান (৪০)। ওই রাতে পুলিশের গুলিতে মাহবুবের পেট এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে যায়। এছাড়াও তার শরীরে অর্ধশতাধিক ছররা গুলি দেখা গেছে।

মাহবুব পেশায় পিকআপ ভ্যানচালক। থাকেন বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টে। ওই রাতে গুলির শব্দ শুনে রাস্তায় বের হন তিনি। তারা সঙ্গে প্রায় দুই শতাধিক লোক ছিল। পুলিশ প্রথমে ছররা গুলি করছিল। এরপরেও যখন রাস্তা থেকে ছাত্র-জনতা সরে যাচ্ছিল না তখন এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। ওই রাতে পুলিশের গুলিতে প্রায় ২০ জন আহত হয়েছিল বাড্ডা এলাকায়।

গুলিবিদ্ধ মাহবুব এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমপি) হাসপাতালের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের ২৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। তার বাম পাশ দিয়ে বুলেট পেটের ভেতরে ঢুকে যায়। দুটি অস্ত্রোপচার (অপারেশন) করে পেটের ভেতর থেকে গুলি বের করা হয়েছে বলে জানান মাহবুব।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাহবুবের পেট থেকে বুক পর্যন্ত সেলাই রয়েছে। হাতে রাবার বুলেট ও পায়ে অসংখ্যা ছররা গুলির দাগ। ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন তিনি। প্রায় এক মাস হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, মাহবুবের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। খুব তাড়াতাড়ি তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন। তবে তাকে একটা দীর্ঘ সময় বিশ্রামে থাকতে হবে।

পরিবারের একমাত্র উপর্জনকারী ব্যক্তি হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন। তার পাশে বসে থাকা স্ত্রী লিপি আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার (স্বামী) অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তবে ডাক্তার বলেছেন বিশ্রামে থাকতে। সে যদি বিশ্রাম করে তাহলে আমাদের সংসার কীভাবে চলবে? আমাদের দুই মেয়ে এক ছেলে রয়েছে। তাদের লেখাপড়ার খরচ, স্বামীর চিকিৎসা খরচ কীভাবে বহন করব সেই চিন্তায় দিন পার করছি। বর্তমানে সংসার চলছে ধারদেনায়। কিন্তু সামনের দিনগুলো কীভাবে যাবে তাদের?

পরিবারের বড় মেয়ে মিম আক্তার বাড্ডার একটি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এমন অবস্থায় তার লেখাপড়া চালানো সম্ভব নয় বলেও জানান গুলিবিদ্ধ মাহবুব। মিমের ছোট ভাই সিয়াম স্থানীয় একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। তার লেখাপড়া নিয়েও চিন্তিত পরিবার। এর মধ্যে বাড্ডায় যে ভাড়া বাসায় মাহবুবরা থাকতেন তার ভাড়া নিয়েও বাড়িওয়ালা চাপ দিচ্ছেন। তবে যে মালিকের পিকআপ ভ্যান চালাতেন মাহবুব তিনি এক মাসের অগ্রিম বেতন দিয়ে সহযোগিতা করেছেন বলেও জানান।

মাহবুবের বাড়ি পটুয়াখালী সদর থানাধীন এলাকায়। সেখানেও রয়েছেন বৃদ্ধ মা-বাবা। তাদের দেখারও কেউ নেই। প্রতি মাসের উপার্জনের টাকাও তাদের পাঠাতেন মাহবুব। একজনের অসুস্থতায় পুরা পরিবার পথে বসেছে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়েই এমন নানা চিন্তা মাথায় নিয়ে দিন কাটছে মাহবুবের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত