নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনসংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে আবেদন হচ্ছে। গত রবিবার আবদেনকারীপক্ষের আরজির পর সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম এ বিষয়ে অনুমতি দেন। ১৩ বছরের বেশি সময় আগে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেয়। রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য রবিবার সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ এবং দুই তরুণ ভোটার জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমানের পক্ষে রিভিউ আবেদনের প্রস্তুতি নেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। এই আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, পাঁচজন আবেদনকারী মূল রিট মামলার কোনো পক্ষ ছিলেন না। এখন তারা রিভিউ আবেদন করবেন। এ কারণে তাদের হয়ে চেম্বার আদালত রিভিউ আবেদনের অনুমতির আরজি জানানোর পর আদালত অনুমতি দিয়েছে। ১৮টি গ্রাউন্ডে (যুক্তি) আবেদনটি প্রস্তত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বা আগামীকালের মধ্যে হলফনামা (এফিডেভিট) করে আপিল বিভাগে আবেদনটি জমা দেওয়া হবে।
১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে স্বৈরশাসক এরশাদের পতন হয়। ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা প্রশ্নে ১৯৯৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ বেশ কয়েকজন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল দেয় হাইকোর্ট। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনী ছিল সংবিধানসম্মত। পরে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আপিল করে রিটকারীপক্ষ। ২০১০ সালের ১০ মে আপিল মঞ্জুর করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করে তখনকার প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ। এ রায়ের আলোকে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয়।
আবেদনের যুক্তিতে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের সংক্ষিপ্ত রায় ও পূর্ণাঙ্গ রায় স্ববিরোধী। কারণ, সংক্ষিপ্ত রায়ে পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে বলা হলেও পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ বিষয়টি আসেনি। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা এক্সারসাইজ করা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দিয়ে উনি (খায়রুল হক) অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কী রকম হবে, এটা বলে দিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেমন হবে, এটা তো আইন বিভাগ আইন করে ঠিক করবে। এটা তো বিচার বিভাগের এখতিয়ার নয়। এ ছাড়া নির্বাচনকালে নির্বাহী বিভাগ কীভাবে কাজ করবে এটা তো তিনি বলতে পারেন না। ড. শরীফ ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘ত্রয়োদশ সংশোধনী সংবিধানের মূল কাঠামোর অংশ। এটা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে করা হয়েছিল। কাজেই এটা বাতিল করা সমীচীন হবে না, এসব যুক্তিতে এ আবেদনটি করা হয়েছে।’
