নড়াইলের সদর উপজেলার শড়াতলা গ্রামে স্ত্রী আছিয়া খানমকে (২২) জবাই করে ও পুড়িয়ে হত্যা মামলায় স্বামী রনি শেখ (২৬) ও বন্ধু মেহেদী হাসান হৃদয়কে (২৫) মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় তাদের প্রত্যেকেকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অপর একটি ধারায় (পেনাল কোডের ২০১ ধারা) প্রত্যেককে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আলমাচ হোসেন মৃধা এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আসামিদের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার শড়াতলা গ্রামের আছিয়া খানমের সঙ্গে একই গ্রামের রনি শেখের বিয়ে হয়। এরপর রনি একই থানার একটি মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে প্রেমিকাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে ৭-৮ দিন অবস্থান করে পুনরায় দুজনে বাড়ি ফিরে আসে। এ ঘটনায় রনি ও তার স্ত্রীর মধ্যে কলহ তৈরি হয়।
২০২২ সালের ৪ নভেম্বর রনি ও তার বন্ধু শড়াতলা গ্রামের মেহেদী হাসান হৃদয় ওরফে আব্বাস ফকির পরামর্শ করে ফ্লোর মোছার স্টিলের মপ দিয়ে আছিয়ার মাথায় আঘাত করে। এতে আছিয়া অজ্ঞান হয়ে গেলে দুজন মিলে প্রথমে শ্বাসরোধ করে, পরে বঁটি দিয়ে তাকে জবাই করে। এরপর পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নেভালে দগ্ধ আছিয়াকে গলা কাটা অবস্থায় দেখতে পায়। এ ঘটনায় আছিয়ার মা রেবেকা বেগম বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল এ রায় দেন বিচারক। এদিকে মামলায় ফাঁসির আদেশ হওয়ায় খুশি বাদীপক্ষ। অপরদিকে আসামিদের আত্মীয়রা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।
এদিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার আউয়াল মৃধা (৩০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে শিমুল (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন বিচারক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক শিহাবুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর চরভদ্রাসনের অমরাপুর এলাকার মো. আউয়ালকে একই উপজেলার মো. শিমুল চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার একদিন পর আউয়ালের বাবা চরভদ্রাসন থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৪ জুন শিমুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘রায়ে বাদীপক্ষ খুশি হয়েছে। এ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করতে কেউ সাহস পাবে না।’
