বুরকিনা ফাসোয় বেসামরিক মানুষ হত্যার দায়ে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে দেশটির নাগরিকরা। সম্প্রতি দেশটির উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় এলাকার চরমপন্থি ইসলামিক গোষ্ঠীর সদস্যরা বারসালোহো গ্রামে প্রায় কয়েক শতাধিক বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে। আহত হয় আরও কয়েক শতাধিক। আহতদের চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী অঞ্চল কায়ার প্রাদেশিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আর এ ঘটনার জন্য দেশটির সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে সাধারণ মানুষ। এর জেরে সেনাপ্রধান ইব্রাহিম তাউরের শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেনাসদস্যদের চাপের মুখে বারসালোহো গ্রামের বাইরের অংশে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পরিখা খননের কাজ করতে বাধ্য হন বাসিন্দারা। অন্যথায় হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয় দেখানো হয়। সেখানেই কাজ করার সময় জঙ্গিগোষ্ঠীর আক্রমণের শিকার হন গ্রামটির সাধারণ মানুষরা। জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত চরমপন্থি দল জামায়াত নাসর আল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় সামরিক দপ্তরের অস্ত্র এবং অ্যাম্বুলেন্সের দখলও নেয় জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পরিখায় কাজ করা মানুষদের লক্ষ্য করে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে নাসর আল ইসলামের জঙ্গিরা। এছাড়া গ্রামে ঢুকে নারী ও শিশুদেরও হত্যা করে তারা। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী রিমতালবা ইমানুয়েল ওয়েড্রাউগো এটিকে বর্বরোচিত হামলা হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
টানা গৃহযুদ্ধ ও চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে দীর্ঘদিন ধরেই বিপর্যস্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো। ২০১৫ সাল থেকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস ও আল কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলগুলো বুরকিনা ফাসোয় গণহত্যা চালিয়ে আসছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশটির ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান ইব্রাহিম তাউরে। ক্ষমতায় আসার পর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তার সেই ডাককে স্বাগত জানিয়েছিল দেশটির সাধারণ নাগরিকরা। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও, দেশটিতে এখনো সংঘাতময় পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
