জান্নাত লাভ করা প্রত্যেক মুসলমানের সারা জীবনের আকাক্সক্ষা। জান্নাত লাভের সহজ ও ছোট ছোট অনেক আমল রয়েছে। এখানে কয়েকটি আমল উল্লেখ করা হলো।
নরম হৃদয়ের অধিকারী : যাদের হৃদয় নরম হবে, কোমল ও সুন্দর মেজাজের অধিকারী হবে, সর্বদা আল্লাহভীরু হবে, কারও কোনো ক্ষতি করবে না, এমন লোক জান্নাতি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে প্রবেশ করবে এমন ব্যক্তি, যাদের অন্তর হবে পাখির অন্তরের ন্যায়।’ (সহিহ মুসলিম)
দুর্বল ও অসহায় হওয়া : জান্নাতে গরিব-মিসকিন, ফকির, পরমুখাপেক্ষী ও দুর্বল লোকদের সংখ্যাধিক্য থাকবে। পক্ষান্তরে যারা তাদের বিপরীত হবে অর্থাৎ অহংকারী, দুশ্চরিত্র ও ঝগড়াটে ব্যক্তিরা জাহান্নামে যাবে। হজরত হারেসা ইবনে ওহাব (রা.) হজরত রাসুল (সা.)কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, আমি কি তোমাদের জান্নাতি লোকদের গুণাবলির কথা বলব না? সাহাবিরা বললেন, হ্যাঁ, বলুন। তিনি বললেন, প্রত্যেক দুর্বল, মানুষের চোখে তুচ্ছ বা হেয়, কিন্তু সে যদি কোনো বিষয়ে আল্লাহর নামে কসম করে তাহলে আল্লাহ তার কসম পূর্ণ করবেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের জাহান্নামি লোকদের কথা বলব না? তারা বললেন, হ্যাঁ, বলুন। তিনি বললেন, প্রত্যেক ঝগড়াকারী, দুশ্চরিত্র ও অহংকারী ব্যক্তি।’ (সহিহ মুসলিম)
নবীজির অনুসারী : যে ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করবে, সে জান্নাতে যাবে। পক্ষান্তরে যে রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করবে না, সে জাহান্নামে যাবে। সুতরাং হজরত রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ দ্বারাই জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, আমার সমস্ত উম্মত জান্নাতে যাবে, তবে ওইসব লোক ব্যতীত, যারা অস্বীকার করে। সাহাবারা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যে আমার নাফরমানি (অবাধ্যতা) করে সে অস্বীকার করে। (সহিহ বোখারি)
দৈনিক ১২ রাকাত নামাজ আদায়কারী : মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১২ রাকাত নামাজ (ফজরের পূর্বে দুই রাকাত, জোহরের পূর্বে চার রাকাত, পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে দুই রাকাত সুন্নত) আদায় করে সে জান্নাতে যাবে। হজরত রাসুল (সা.)-এর স্ত্রী উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হজরত রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ফরজ ব্যতীত ১২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। (সহিহ মুসলিম)
