অপুষ্টিজনিত রোগ নিয়ে শিশু বিভাগের ২০৭ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন তিন বছর নয় মাস বয়সী মিফতাহুল। মেঝেতে বিছানা। নাকে পাইপ লাগানো। রবিবার সকাল থেকে চিকিৎসক আসেননি। আজ কি ওষুধ দেবেন, বা পাইপ খুলবেন কি না, সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না কর্তব্যরত নার্সরাও। শিশুর পাশে বসা অসহায় বাবা জাকির হোসেন। কি করবেন বুঝতে পারছেন না তিনি।
গত শুক্রবার শিশুকে নিয়ে চাঁদপুর থেকে এসেছেন জাকির হোসেন। শয্যা না পেয়ে ঠাই হয়েছে ওয়ার্ডের মেঝেতে। আজ সকাল থেকে ওয়ার্ডে কোনও চিকিৎসক আসছেন না। শিশুটির অবস্থা এখনো আগের মতো। তবে কখন কি হয়, সে নিয়ে উদ্বিগ্ন বাবা।
জাকির হোসেন বলেন, এখনো কোনও অসুবিধা হয়নি। কিন্তু ওর নাকের পাইপ বদলাতে হবে কি না, নতুন কোনও ওষুধ দিতে হবে কি না, কিছুই বলতে পারছেন না নার্সরা। কখন কি হয়ে যায়, সে চিন্তায় আছি।
একই উদ্বেগ দেখা গেল ২০৮ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে। ২৩ নম্বর শয্যায় নাতি আয়ানকে নিয়ে বসে আছেন নানি কনক রানী। এসেছেন মাওয়া থেকে বুধবার রাতে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। নাকে পাইপ দিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে তিন মাসের শিশুটিকে।
নানী কনক রানী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকাল থেকে কোনও চিকিৎসক নেই। শ্বাসকষ্ট কিছুটা বেড়েছে মনে হচ্ছে। নার্সরাও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। পুরনো ওষুধই চলছে। কথা ছিল আজ চিকিৎসক এসে নতুন করে প্রেসক্রিপশন দেবে। কিন্তু চিকিৎসক আসেননি। পুরনো প্রেসক্রিপশনেই চলছে চিকিৎসা।
চিকিৎসকরা না আসায় রোগীদের নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন কর্তব্যরত নার্সরা। ২০৮ নম্বর ওয়ার্ডের নার্সরা জানান, এই ওয়ার্ডে শয্যা ও মেঝে মিলে ৩২ শিশু চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে নিউমোনিয়ার রোগী ১৭ জন। কিছু শিশুর রক্ত লাগবে। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। কিছু শিশুর চিকিৎসা বদলাতে হবে। সেটাও আমরা পারছি না। বাধ্য হয়ে গতকালের চিকিৎসায় দেওয়া হচ্ছে রোগীদের।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এই ওয়ার্ডের একজন নার্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের কিছু করার নেই। আমরা প্রেসক্রিপশন ধরে চিকিৎসা দেই। ডাক্তার যদি না আসে, আমরা কিছু্ই করতে পারব না।
এমন উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ২০৭ নম্বর শিশু ওয়ার্ডের নার্সরাও। কর্তব্যরত একজন নার্স বললেন, কয়েকটা শিশুর ইনজেকশন লাগবে। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। চিকিৎসক না বললে আমরা দিতে পারি না।
চলে যাচ্ছে রোগীরা
শিশু ওয়ার্ডের নিচে দেখা গেল তিনটি ভ্যানে তিনজন রোগীকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। তাদের একজন এসেছেন কেরাণীগঞ্জ থেকে। রোগী হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে। তারা দ্রুত হাসপাতালে এনেছেন। কিন্তু জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকায় রোগীকে দেখাতে পারেননি। এখন কি করবেন, বুঝতে পারছেন না। অন্য দুই ভ্যানের স্বজনরা রোগীদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উদ্বিগ্ন চিকিৎসক, রোগীরা
হাসপাতালের নিচে কয়েকজন চিকিৎসক ও রোগীর সঙ্গে কথা হলো। এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বললেন, আজ ওয়ার্ডে নতুন রোগী ভর্তি করার কথা ছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে ভর্তি করাতে পারিনি। এখন পুরনো রোগীদের দেখতে ওয়ার্ডেও যেতে পারছি না। নার্স ও রোগীর লোকজন ফোন দিচ্ছে। কিন্তু কি করব? আন্দোলন উপেক্ষা করে গেলে পরে বিপদে পড়ব।
আরেক চিকিৎসকও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে যাওয়া অনুচিত। দাবি দাওয়া থাকলে সেটা কাজের মধ্য দিয়েই আদায় করতে হবে। কিন্তু রোগীদের বিপদে ফেলে দাবি-দাওয়া নিয়ে থাকা অনুচিত।
বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগীদেরও উদ্বিগ্ন দেখা গেছে। তারা জানান, চিকিৎসকরা সারাদিন ওয়ার্ডে যাননি। নার্সরাও কিছু বলতে পারছে না। এভাবে কতক্ষণ চলবে, কে জানে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে রোগীদের নিয়ে কি করবেন, তারা বুঝতে পারছেন না।
দুর্গাপূজায় আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব: জামায়াতের আমির
জরুরি বিভাগ চালু করতে চিকিৎসক নেতারা যা চাইলেন
বিএসএমএমইউর নতুন কোষাধ্যক্ষ ডা. নাহরিন আক্তার
ঢামেকে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা