দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার কমিশন এ সিদ্ধান্ত নেয়। অন্য যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হচ্ছে তারা হলেনÑ প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের এপিএস (ছোট ভাই) মো. সাহাবুদ্দিন, তার মেয়ে শামীমা সুলতানা হৃদয় ও ভাগ্নে ইয়াসিন আরাফাত পৃথিবী।
দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে পিরোজপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম। এর আগে ২০১৮ সালে একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিকানা অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি নিজ নামে বরিশালের নাজিরপুর, পিরোজপুর এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অনেক সম্পদ করেছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন নামক প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং প্রশিক্ষণের নামে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া তার আত্মীয়স্বজনের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
অন্যদিকে মন্নুজান সুফিয়ান ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত খুলনা-৩ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের টিকিট পাননি। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে নিজের ছোট ভাই এপিএস সাহাবুদ্দিন, সাহাবুদ্দিনের মেয়ে শামীমা সুলতানা হৃদয়, বোনের ছেলে ইয়াছির আরাফাত পৃথিবীর সহায়তায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন।
অভিযোগে বলা হয়, তিনি নিজ নামে ঢাকার উত্তরায় ১০ নম্বর সেক্টরে রাজউকের প্রকল্পে ৫ কাঠা জমি, খুলনার দৌলতপুর সাহেববাড়ি রোডে তিনতলা বাড়ি নির্মাণ, দুটি গাড়ি ক্রয়, কেডিএ হাউজিং প্রকল্পে ১৬ দশমিক ৭ কাঠা জমি ক্রয় করেন। তিনি ছোট ভাই সাহাবুদ্দিন, সাহাবুদ্দিনের মেয়ে শামীমা সুলতানা হৃদয়, ভাগ্নে ইয়াছির আরাফাত পৃথিবীর সহায়তায় বিভিন্ন নিয়োগ, পোস্টিং ও পদোন্নতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
