গুলি ও বোমাবর্ষণে ফের অশান্ত ভারতের মণিপুর। গতকাল রোববার রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলে দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দুই পুলিশ সদস্য ও এক সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
রাজ্য পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রোন দ্বারা বোমাবর্ষণ ও গুলি করে হামলাগুলো চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্র। গয়েন্দারা বলছে, জাতিগত সহিংসতায় আক্রান্ত রাজ্যের বেসামরিক এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে বোমাবর্ষণ আতংক বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে মেইতেই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত ইম্ফল ওয়েস্ট এবং কুকি অধ্যুষিত কাঙ্গপোকপির সীমানা সংলগ্ন এলাকাতে গোলাগুলি হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন ওই নারী ও তাঁর মেয়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও অতিরিক্ত বাহিনী। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে এ গোলাগুলি।
অন্যদিকে, মণিপুরে ড্রোনের মাধ্যমে বোমা হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে কাংপোকপিতে অন্তত দুটি অস্ত্রযুক্ত ড্রোন দেখা গেছে।
বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) স্টেশনের খুব কাছেই এ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় আহত হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। একটি ড্রোন থেকে ফেলা বোমা থেকে একজন পুলিশ সদস্যের পায়ে আঘাত লাগে।
এ হামলার সঙ্গে উচ্চ প্রশিক্ষিত পেশাদারদের সম্পৃক্ততা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তাঁরা জানিয়েছে, এ হামলার পেছনে ‘সম্ভবত প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ব্যক্তি এবং সহায়তা রয়েছে।
রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলের কাছেই এই হামলা চালানো হয়েছে এবং ‘কুকি’ বিদ্রোহীরাই ওই হামলা করেছে বলেও বিবৃতিতে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ।
২০২৩ সালের মে মাসের শুরুর দিকে ভারতের পাহাড়ি রাজ্য মণিপুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংখ্যালঘু কুকি সম্প্রদায়ের ভয়াবহ দাঙ্গা বাধে। মণিপুর হাইকোর্ট গত বছর মেইতেইদের তফসিলি উপজাতির মর্যাদা দেওয়ার সুপারিশ করেন, যা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান কুকিসহ অন্যান্য উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ। এর জেরেই গত ৩ মে থেকে মণিপুরে জাতিগত দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।
মণিপুরের সমতলে বসবাস করা মেইতেইরা মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। অন্যদিকে কুকিরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের।
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে সতর্কতা বাড়াল ভারত