বাড়িতে হামলার সময় অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি মৃত সন্তান প্রসব

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:২৫ এএম

ফরিদপুরের সালথায় আরিফা বেগম (২০) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও পেটে লাথি মারায় রক্তক্ষরণের পর মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ওই নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী আরিফা গোপালিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের মেয়ে ও একই উপজেলার বাহিরদিয়া গ্রামের শওকত মোল্যার স্ত্রী। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের গোপালিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষের লোকজনের হামলায় ইয়ার আলী (৫২) নামের এক মুদি দোকানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার মারা যান। এরপর থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে মাঝেমধ্যেই ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে শওকত মোল্লার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে বাধা দিলে অন্তঃসত্ত্বা আরিফার পেটে লাথি মারে হামলাকারীরা। এতে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে আরিফা মৃত সন্তান প্রসব করেন। এ সময় আরিফা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও রাতে তাকে হাসপাতালে নিতে দেয়নি প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে পাশের গ্রামের লোকজনের সহযোগিতায় গতকাল সকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

তবে এব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও একটা পক্ষকে ফাঁসানোর পাঁয়তারা বলে দাবি করেছেন প্রতিপক্ষের গ্রাম্য নেতা আইয়ূব মাতুব্বর। তিনি বলেন, ‘ওই নারীকে কোনো প্রকার মারধর কিংবা নির্যাতন করা হয়নি। এরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের পক্ষের লোকজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’

এ ব্যাপারে সালথা থানার ওসি ফায়েজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত