পিপিপি ঋণ জালিয়াতি, নিউ ইয়র্কে ২ বাংলাদেশি অভিযুক্ত

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:০৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে সরকারি ঋণ জালিয়াতি ও প্রতারণার দায়ে বাংলাদেশি বাবা-ছেলে অভিযুক্ত হয়েছেন। কোভিড-১৯ সংকটের সময় নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে বাংলাদেশি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রাহিল কন্ট্রাক্টিং ইনক নাম দেখিয়ে ১.৮৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৩ কোটি টাকা) সরকারি ঋণ নেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক বাংলাদেশি নূরুস সাফা ও তার ছেলে মাইদুল সাফা।

নূরুস সাফা নিউ ইয়র্কে আঞ্চলিক সংগঠন সন্দ্বীপ সোসাইটির বর্তমান উপদেষ্টা। তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঋণ নিয়ে দুটি বাড়ি ও বিলাসবহুল বিএমডবিডব্লিউ গাড়ি কিনেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

করোনা মহামারীর পর প্রতিষ্ঠান চালু রাখতে কর্মচারিদের বেতন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ফেডারেল সরকার পিপিপি ঋণ সুবিধা চালু করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু নানা অজুহাত দেখিয়ে উক্ত ঋণের অর্থ পরবর্তীতে মওকুফ জন্য আবেদন করলে অনেকেই উক্ত অর্থ মওকুফ পান। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রতারণা করে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অনেকেই মিথ্যা তথ্য, বিশেষ করে ভুয়া অফিস ও কর্মচারি দেখিয়ে পিপিপি ঋণের অর্থে বাড়ি ও গাড়ি কিনেছেন, যা গুরুতর অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি গঞ্জালেজ বলেন, এই আসামিরা পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম থেকে ১ মিলিয়নেরও বেশি চুরি করার জন্য একটি নির্লজ্জ পরিকল্পনায় জড়িত এবং কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন ছোট ব্যবসার মালিকদের সংগ্রামে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে সমালোচনামূলক তহবিল দিয়ে তাদের নিজস্ব পকেট ভারি করেছেন। আমরা এখন তাদের জবাবদিহি করতে চাই। এই মামলায় ন্যায়বিচার অনুসরণে সহায়তার জন্য আমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি বলেছেন, তদন্ত অনুসারে নুরুস সাফা হলেন রাহিল কন্ট্রাকটিং ইনকর্পোরেশনের মালিক, একটি ছোট নির্মাণ সংস্থা যা ব্রুকলিনের কেনসিংটনের বাইরে কাজ করে। তার ছেলে মাইদুল সাফা কোম্পানির প্রজেক্ট এক্সিকিউটিভ হিসেবে তালিকাভুক্ত। কোভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর নুরুস সাফা রাহিলের পক্ষে এসবিএ-সমর্থিত ঋণদাতার মাধ্যমে একটি পিপিপি ঋণের জন্য আবেদন করেছিলেন। তারা আবেদনে মিথ্যাভাবে প্রত্যয়ন করেছেন।

তদন্ত অনুসারে, আসামিরা প্রায় ১০৮৪৪৭৭.৫০ ডলারের মোট দুটি পিপিপি ঋণ পেয়েছে। তহবিল উপলব্ধি হওয়ার কিছুদন পরেই তারা দ্রুত বিলাসবহুল আইটেমসহ ব্যক্তিগত ক্রয়ের জন্য অর্থ ব্যবহার করে। অভিযুক্তরা দুটি পাঁচ বেডরুমের বাড়ি কেনার জন্য মোট ৩৯,৩৬৭০ ডলার খরচ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি নিউ জার্সির ভুরিসে এবং অন্যটি পাইন হিলে। ২০২১ সালের বিএমডাব্লিউ এম৫ স্পোর্টসে কেনার জন্য ডাউন পেমেন্ট হিসাবে আরও ৭১ হাজার ডলার নগদ জমা দেন। 

তদন্ত অনুসারে পিপিপি তহবিলের বেশিরভাগ ব্যালেন্স নুরুস সাফা বা মাইদুল সাফার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছিল। আর্থিক রেকর্ডের বিশ্লেষণে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না যে পিপিপি তহবিল কর্মীদের নিয়মিত অর্থ প্রদানের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।

করোনার পর পিপিপি ঋণের অর্থে আরও দশজনেরও বেশি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন। নামধারী সমাজসেবক সেজে সাংস্কৃতিক মঞ্চ কাঁপাচ্ছেন। এখন তাদের নামে একে একে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। কেসিডিএ গোয়েন্দা তদন্তকারী সংস্থা ইতোমধ্যে আরও দশ জনেরও বেশি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত