বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নগরের মুরাদপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. ফারুক (৩২) নামে ফার্নিচার দোকানের এক কর্মচারী নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় আবুল হাসেম সুমন (৪০) নামে মৃত এক ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। অথচ ৯ বছর আগে ২০১৫ সালে মারা যান সুমন। তিনি (সুমন) নগরের খুলশি থানাধীন খুলশি কলোনি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
মামলার পর থেকে পুলিশ মৃত এই ব্যক্তির পরিবারকে হেনস্থা করছে বলে আদালতে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর ছেলে মেহেদী হাসান আকাশ। আজ মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগে দায়ের করা হয়। আদালত এই ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে আবুল হাসেম সুমনের পরিবারকে হেনস্থার অভিযোগ অস্বীকার করে নগরের পাঁচলাইশ থানার ওসি (তদন্ত) আখতারুজ্জামান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলার এজাহারে আসামির নাম দিয়েছেন বাদী। নাম দিয়েছে বলেই পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে যায়নি। ঘটনার তদন্ত হবে। কে বা কারা ফারুক হত্যায় জড়িত তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। পুলিশ বাসায় গিয়ে মারা যাওয়া সুমনের পরিবারকে হেনস্থার অভিযোগ সঠিক নয়।’
আদালত সূত্র জানায়, ফারুক হত্যা মামলায় গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে অক্সিজেন এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে কামাল উদ্দিন (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কামাল উদ্দিন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কদম রসুল এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে। জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট বেলা আড়াইটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সময় যুবলীগ-ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মো. ফারুক।
এ ঘটনায় ২৮ আগস্ট সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত ফারুকের বাবা মো. দুলাল বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় এজাহারভুক্ত ১৯৩নং আসামি করা হয় মৃত আবুল হোসেন সুমনকে (৪০)। অথচ ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মারা যান আবুল হাসেম সুমন। একই মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, রাউজানের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীসহ ২৬৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহত দোকান কর্মচারী মো. ফারুকের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের সৈয়দপুর গ্রামে। বিয়ের পর থেকে তিনি কুমিল্লার চান্দিনার বাতাঘাসি ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। চট্টগ্রাম নগরের শুলকবহর ফার্নিচার দোকানে কাজ করে সচল রেখেছিলেন সংসারের চাকা। ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে দোকান থেকে নগরের বহদ্দারহাটে ভাত খাওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন তিনি। পথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ফারুক।
