‘বর্তমান সংবিধান বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না’

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:০৭ পিএম

বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক সৈয়দ তোশারফ আলী বলেছেন, বর্তমানে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের জন্য সরকার ছয়টি কমিশন গঠন করেছে। আমরা একে স্বাগত জানাই, এর সঙ্গে এটাও বলতে চাই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা দুর্নীতি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নিলে রাষ্ট্রের বেশির ভাগ সমস্যা সমাধান হবে।

আজ শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে লেখক-সাংবাদিকদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময়সভায় তিনি একথা বলেন। সভার আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি।

সাংবাদিক আব্দুর রহমান মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, কবি আব্দুল হাই শিকদার, এবি পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাসাসের সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এম. আব্দুল্লাহ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষক কবি শামীমা চৌধুরী, সাংবাদিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম খান, সিনিয়র সাংবাদিক ও গবেষক আহমেদ মতিউর রহমান, কবি ও লেখক ফজলুল হক খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য শাহনাজ পলি, সিনিয়র সাংবাদিক নাসরিন গীতি।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ তোশারফ আলী বলেন, দেশ তখনই সঠিকভাবে চলবে যখন আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। এটা কাগজ কলমে নয়, বাস্তবিক অর্থেই সরকার করবে। গণঅভ্যুত্থানের পর দেশকে সঠিকভাবে চালাতে হলে এই সমস্ত বিষয় নিয়ে আমরা যারা সাংবাদিক, লেখক, কবি, সাহিত্যিক আছি, যারা চাই দেশটা ভালে চলুক, মানুষ অধিকার পাক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক তাদেরও সঠিক ভূমিকা রাখতে হবে। সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলতে হবে। সত্য লিখতে হবে। ব্যক্তি বা দলীয়স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে রাষ্ট্রকে কোনও সময়ই সঠিকভাবে চালানো সম্ভব নয়।

কবি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, শেখ মুজিব ফ্যাসীবাদের প্রতিক। দুর্ভাগ্যের বিষয় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরও ফ্যাসীবাদের এই প্রতিক উপদেষ্টাদের মাথার ওপর ঝুলছে। তারা সাংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই সরকার গনঅভ্যুত্থানের বিপ্লবী সরকার। এই সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ এই সংবিধানকে ফেলে দিয়ে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রেখে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। কারণ এই সংবিধান দেশের ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে না।

এবি পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু উপস্থিত লেখক ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা এই দেশ, এই সমাজের আয়না। একটি ফ্যাসীবাদি সরকার সমাজে এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিল যে আজ সাংবাদিকদের দেশছেড়ে পালিয়ে যেতে হচ্ছে। আমরা তো এমন দেশ চাই না যেখানে সাংবাদিক, লেখক, সাহিত্যিক বা প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে পালিয়ে যেতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমরা লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিকদের কাছে নতুন করে দেশ গড়ার সঠিক ভূমিকা চাই। আমরা চাই আপনারা দেশকে সঠিক রাস্তায় চালাতে ভূমিকা রাখবেন। আমরা সার্বিক সহোযোগিতা করব।

মতবিনিময় সভায় দেশের স্বনামধন্য সাংবাদিক, লেখক ও কবি সাহিত্যিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত