ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানির উপর থেকে ২০ভাগ শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলেও সেটি ভারতীয় কাস্টমসের সার্ভারে সংযুক্ত না হওয়ায় এখনো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে নতুন শুল্কের পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়নি।
রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভারতের সরকারি ছুটি হওয়ায় সেটি সংযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এদিকে আগামীকাল সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ও ভারতে সরকারি ছুটি থাকায় সার্ভারে সংযুক্ত না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এদিকে নতুন শুল্কের পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে আমদানি বাড়ার সাথে সাথে দাম কমে আসবে বলে দাবি আমদানিকারকদের।
ভারতীয় সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট অনিল সরকার বলেন, ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানির উপর যে শুল্ক ৪০ ভাগ আরোপ করে রেখেছিল সেটি কমিয়ে ২০ ভাগ নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই সাথে প্রতিটন পেঁয়াজের রফতানি মুল্য ৫৫০ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ৪০৫মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে। কিন্তু শুল্ক ৪০ থেকে ২০ ভাগ করা হলেও কাস্টমসের সার্ভারে সেই বিষয়টি সংযুক্ত না করায় এখনো পেঁয়াজ রফতানির উপর শুল্ক ৪০ভাগ দেখাচ্ছে। যার কারণে নতুন শুল্কে এখনো পেঁয়াজ রফতানি শুরু হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গতকাল শনিবার(১৪ সেপ্টেম্বর) সেই বিষয়টি সংযুক্ত হয়নি আর আজ রোববার(১৫ সেপ্টেম্বর) আমাদের দেশে সরকারি ছুটি রয়েছে। এছাড়া আগামীকাল সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ও ভারতে দুদেশেই সরকারি ছুটি রয়েছে। তাই সেই বিষয়টি কাস্টমসের সার্ভারে সংযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম রয়েছে। সেক্ষেত্রে মঙ্গলবার সার্ভারে সংযুক্ত হলে সেদিন থেকেই নতুন শুল্কে পেঁয়াজ রফতানি শুরু হতে পারে। আর যদি বিশেষ কোনো ব্যবস্থায় এর মধ্যেই সেই বিষয়টি কাস্টমসের সার্ভারে সংযুক্ত করা হয় তবেই নতুন শুল্কে পেঁয়াজ রফতানি শুরু হতে পারে।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাখে ভারত সরকার। এর পর থেকেই হিলিসহ দেশের সবগুলো স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। দীর্ঘ ৫মাস বন্ধের পর গত ৪মে পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় ভারত সরকার। তবে তারা ওই দিনই পেঁয়াজ রফতানি নিরুৎসাহিত করতে পেঁয়াজ রফতানির উপর ৪০ভাগ শুল্ক আরোপ করে রাখে। সেই সাথে প্রতিটন পেঁয়াজের নুন্যতম রফতানি মুল্য ৫৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে রাখে। এর ফলে বাড়তি দামের কারণে সেভাবে বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা সম্ভব হচ্ছিলনা। ৪ মাস ৯দিন পর গত শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পেঁয়াজ রফতানির উপর থাকা ৪০ভাগ শুল্ক প্রত্যাহারের কথা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জেনে ছিলাম। পরবর্তীতে অপর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রফতানি শুল্ক ৪০ভাগ থেকে ২০ভাগ কমিয়ে ২০ভাগ নির্ধারণ ও পেঁয়াজের নূন্যতম রফতানি মুল্য ৪০৫ মার্কিন ডলার করা হয়েছে বলে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জেনেছি। শনিবার থেকেই শুল্ক কমানো ও রফতানিমুল্য কমানোর সেই বিষয়টি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন সেই নির্দেশনার বিষয়টি এখনো ভারতের হিলি কাস্টমসের সার্ভারে সংযুক্ত না হওয়ায় ভারতীয় রফতানিকারকরা নতুন শুল্কে পেঁয়াজ রফতানি শুরু করতে পারেনি যার কারণে বন্দর দিয়ে নতুন শুল্কে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়নি। বর্তমানে যে ৪০ভাগ শুল্ক রয়েছে তাতে করে প্রতি কেজিতে শুল্ক দিতে হবে ১৮রুপি করে আর ২০ভাগ শুল্ক হিসেবে প্রতি কেজিতে শুল্ক দিতে হবে ৭রুপি করে। যার কারণে আমদানিকারকরা আগের মুল্যে কেউ পেঁয়াজ আমদানি করছে না তবে আমদানিকারকরা চাইলে ভারত পুর্বের শুল্কে পেঁয়াজ রফতানি করবেন। এতে করে এক ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি করতে ৫লাখ টাকার মত বাড়তি দিতে হবে। যার কারণেই ভারতে ২০ভাগ শুল্ক কার্যকর না হওয়ায় কেউ পেঁয়াজ আমদানি করছে না।
তিনি আরও বলেন, অনেকে কয়েকদিনের পুরোনো লোডিং হয়ে থাকা পেঁয়াজের ট্রাক নিতে পারেন তবে অধিকাংশ আমদানিকারক সেটি কার্যকর না হওয়ায় এখন পেঁয়াজ আমদানি করবেন না। নতুন ২০ ভাগ শুল্ক কার্যকর হলে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি যেমন আগের তুলনায় বাড়বে তেমনি দাম কমে আসবে। এছাড়া আমাদের পুরানো এলসিগুলো এম্যান্ডমেন্ট করতে হবে শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় সেটি করতে পারিনি তবে আজ রোববার আমদানিকারকরা সেটি সম্পূর্ণ করে ফেলবেন। আশা করছি দুয়েকদিনের মধ্যেই বন্দর দিয়ে নতুন শুল্কের পেঁয়াজ আমদানি শুরু হবে।
