নেত্রকোনা জেলা সদরে বাজার মনিটরিং ও ভোক্তা অধিকারের অভিযানকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বড়বাজার দোকান গল্লি এলাকায় একটি কসমেটিকসের দোকানে অভিযানকালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় নারী শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে দোকান মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে শুভ্র নামের এক দোকানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। বাকিদের মালিক সমিতির উপস্থিতিতে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা ভোক্তা অধিকারকে জানান, অনুমোদনহীন ও চোরাই পথে আসা নিষিদ্ধ পণ্য কসমেটিকসের দোকানে বিক্রি হচ্ছে। পরে দুপুরে ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা এবং সমন্বয়করা বাজার মনিটরিংয়ে যান। সৈকত স্টোর নামে একটি দোকানে অভিযান চালালে সেখানে নিষিদ্ধ চোরাই পণ্যসহ বিএসটিআইয়ের লোগোহীন পণ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার দোকান মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে।
এরপর বড়বাজার এলাকার সব কসমেটিকস দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা এসে সমন্বয়কদের সঙ্গে তর্ক শুরু করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন তারা। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে সেনাবাহিনী। তাদের উপস্থিতিতেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন দোকান মালিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শুভ্র নামের একজনকে অস্থায়ী ক্যাম্পে নেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক প্রীতম সোহাগ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই নেত্রকোনার কসমেটিকস বাজারে অনিয়মের বিষয়টি জেনে আসছি। সকালে ভোক্তা অধিকারের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা বাজার মনিটরিংয়ে আসি। ভোক্তা অধিকার সৈকত স্টোরে অবৈধ, ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং চোরাই পণ্য পাওয়ায় জরিমানা করে। এরপরই অন্য দোকানি ও কর্মচারীরা আমাদের ওপর হামলা করেন। আমরা চাই নিষিদ্ধ ও ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া পণ্য যাতে অতিরিক্ত মূল্যে কেউ বিক্রি করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কসমেটিকস দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঝন্টু সাহা বলেন, ‘আমি সেনা ক্যাম্পে আছি। একটু পরে কথা বলব।’ এরপর দুই ঘণ্টা পর্যন্ত তাকে ফোন দিলেও তিনি সাড়া দেননি।
নেত্রকোনা ভোক্তা অধিকার কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক আবদুস ছালাম বলেন, ‘আমরা বাজার মনিটরিংয়ে গিয়ে প্রথমে সৈকত স্টোর নামে একটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করি। তখন ওই মার্কেটে দোকানের লোকজন এসে সমন্বয়কদের ওপর হামলা করে। আমরা এবং পথচারীরা তাদের থামানোর চেষ্টা করি।’
নেত্রকোনা অস্থায়ী সেনাবাহিনী ক্যাম্পের মেজর জিসানুল হায়দার বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ওপর হামলা খবর পেয়ে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং একজনকে ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়েছে।
