নাফিজ সরাফাতের দুই প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম তদন্তে এসইসি

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:১০ এএম

ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের আলোচিত ব্যক্তি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও তার পরিবারের মালিকানাধীন সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ও মার্চেন্ট ব্যাংক স্ট্র্যাটেজিক ফিন্যান্স লিমিটেডের অনিয়ম তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গত মঙ্গলবার এজন্য আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি।

স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের অনিয়ম তদন্তে এসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ এমদাদুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন এসইসির উপপরিচালক রফিকুন নবী ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবু হেনা মোস্তফা। বিকল্প বিনিয়োগের নামে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিতে তহবিলের ব্যবহার এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে এসইসি গঠিত তদন্ত কমিটিকে। কমিটিকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন এসইসিতে জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নাফিস সরাফাতের মালিকানাধীন স্ট্র্যাটেজিক ফিন্যান্স লিমিটেডের তহবিল-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেনি এসইসি। গতকাল এসইসির একাধিক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এসইসি সূত্রে জানা গেছে, স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের নামে নাফিজ সরাফাত পদ্মা ব্যাংক থেকে কয়েকশ কোটি টাকা সরিয়ে নেন। বিকল্প বিনিয়োগের নামে পদ্মা ব্যাংক থেকে ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ স্থানান্তর করা হয় এই সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিতে। পরে সেই অর্থ নাফিজ সরাফতের মালিকানাধীন অন্যান্য কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা হয়। এভাবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিটির মাধ্যমে পদ্মা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে।

এসইসি জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা বিকল্প বিনিয়োগ তহবিলের বিনিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইনকানুন যথাযথভাবে পরিপালন করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে। এ ছাড়া বিনিয়োগের বিপরীতে তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত ঘটেছে কি না, তহবিলের ব্যাংক হিসাবের হালনাগাদ তথ্য যাচাই-বাছাই, তহবিলের অর্থ ব্যাংকে জমার বিপরীতে কী পরিমাণ সুদ পেয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের বিপরীতে কী পরিমাণ মুনাফা পেয়েছে এসব তথ্যও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে কমিটিকে। এর বাইরে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিটির বিকল্প বিনিয়োগ তহবিলের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের অনিয়মও খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাফিজ সরাফাত ও তার পরিবারের মালিকানাধীন স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট একটি সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০২৩ সালে বিএসইসির নিবন্ধন পায়। এই প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে চারটি মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে। এ চারটি ফান্ডের প্রাথমিক আকার ৩২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় পৌনে ২০০ কোটি টাকার দুটি তহবিলের উদ্যোক্তা বা স্পন্সর পদ্মা ব্যাংকসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। আবার দীর্ঘদিন পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন নাফিজ সরাফাত। অর্থাৎ নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এক প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেরই আরেক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে অর্থ সরিয়ে নেন তিনি।

এসইসি সূত্রে জানা যায়, স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের তত্ত্বাবধানে গঠিত বিভিন্ন তহবিলের অর্থ নানাভাবে অপব্যবহার করে নিজে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন নাফিজ সরাফাত। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে সরকার-ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় এসব অনিয়মের বিষয়ে বিএসইসিসহ কোনো সংস্থা ব্যবস্থা নিতে পারেনি। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নাফিজ সরাফাতের বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে মাঠে নামে এসইসিসহ বিভিন্ন সংস্থা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত