Prevention is better than cure- আমরা প্রায়ই এই কথা বলি। অসুস্থতা শুরুর পর তা থেকে রেহাই পাওয়ার চেয়ে লক্ষণের শুরুতেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া ভালো। যে কারণে তা নিরাময়ের চেয়ে উত্তম। যেকোনো ভাইরাল রোগ স্বল্প সময়ে শতভাগ নিরাময় করা কঠিন। কোনো রোগ হলে তার চিকিৎসা নিয়ে আমরা যতটা ব্যস্ত হয়ে পড়ি, প্রতিরোধের ক্ষেত্রে করি যেন তার উল্টোটা। অথচ একটু সচেতন হলে, বাজেটে বরাদ্দ বাড়ালে সহজেই ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। চায়না মেডিকেল এনসাইক্লোপেডিয়ায় খ্রিস্টপূর্ব ২৫০ অব্দে ডেঙ্গুকে ‘ওয়াটার পয়জন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তার অনেক পরে ১৭৭৯-৮০ সালে এশিয়া, আমেরিকা ও আফ্রিকায় এটি মহামারী আকারে দেখা দিয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৫৩ সালে ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডেও এই রোগ মহামারী হিসেবে দেখা দেয়।
বিশ^ব্যাপী প্রায় ৩ বিলিয়ন মানুষ এখনো ডেঙ্গু রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে কমপক্ষে ৫০ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মারা যাচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। মহামারী আকারে ডেঙ্গু আমাদের দেশে ছড়িয়েছে ২০১৯ সালে। ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। আবার এ বছরও সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, আরও ভয়ংকর হতে পারে ডেঙ্গু। মনে রাখা দরকার ডেঙ্গু ছোঁয়াচে রোগ নয়। মূলত এডিস মশার কামড় এড়িয়ে চলাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়। এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরে বৃহস্পতিবার দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। জানা যাচ্ছে, আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে চলছে এডিস মশাবাহিত এ রোগ। আগামী মাসে ডেঙ্গু আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি মাসের ১৮ দিনেই দেশে বছরের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু আক্রান্তের রেকর্ড হয়েছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা) ভর্তি হওয়া নতুন রোগী মিলে চলতি মাসে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২৩৮ জন। বৃহস্পতিবারের সর্বশেষ তথ্য এই লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১১৯ জন। যার মধ্যে ৫৫ শতাংশ নারী ও ৪৫ শতাংশ পুরুষ। এর মধ্যে এ মাসেই দেশব্যাপী সর্বোচ্চ সংখ্যক মারা গেছেন ৩৬ জন। এ ছাড়া মে ও জুলাই মাসে ১২ জন এবং আগস্টে ২৭ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৭৯ জনে।
আসলে ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এই মশার বংশবৃদ্ধি রোধের মাধ্যমে ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধ করা যায়। যদিও সাধারণ চিকিৎসাতেই ডেঙ্গুজ্বর সেরে যায়, তবু ডেঙ্গু শক সিনড্রোম এবং হেমোরেজিক ডেঙ্গুজ্বর মারাত্মক হতে পারে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখনো কোনো অভিযোগ জানা যায়নি। নিজ উদ্যোগে মশার আবাসস্থল ধ্বংস করে মশার বংশবিস্তার প্রতিরোধ করতে হবে। এজন্য এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী বিভিন্ন আধারে আটকে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। বৃহস্পতিবার থেকে ডিএনসিসির সব অঞ্চলে একযোগে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ ধরনের উদ্যোগ অনেকবার আগে নেওয়া হলেও, বর্তমানে তার ফল অন্যরকম হবে বলে আশা করা যায়।
আগে অনেকবার ঢাকা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিল। যদিও সে ক্ষেত্রে ডেঙ্গু আক্রান্তের হিসাবে তেমন কোনো তারতম্য দেখা যায়নি। এবার স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার পরামর্শে মশক নিধনে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আশা করা যায়, এ ব্যাপারে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে দ্রুত এ বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করা দরকার। দেশবাসীকে সচেতন করা ছাড়া এ ধরনের মশাবাহিত রোগের থাবা থেকে মুক্ত থাকা অসম্ভব।
