গত ৪ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত ১৭ দিনে দেশের ৭৬টি জেলা ও মহানগরে ২০১০টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৭০৫টি সংখ্যালঘু পরিবারের বিভিন্ন বয়সী প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে; নিহত হয়েছে ৯ জন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। পরিষদের পাশাপাশি ১৯৯০-এর অক্টোবর থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত সব সাম্প্রদায়িক নৃশংসতার নির্মোহ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, প্রেসিডিয়াম সদস্য রঞ্জন কর্মকার প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্যবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে, যা এরপরও অব্যাহত থাকে। এখনো রয়েছে। এ সুযোগে একশ্রেণির সুযোগসন্ধানী দুর্বৃত্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, উপাসনালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে।
বলা হয়, ৪ থেকে ২০ আগস্ট ২০১০টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় ১৭০৫টি পরিবারের সদস্যরা সরাসরি আক্রান্ত হয়েছেন। ১৫৭টি পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়েছে খুলনা বিভাগে, সেখানে এ সংখ্যা ৮১০। চারজন নারী ধর্ষণ/গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের একজন বাকপ্রতিবন্ধী।
সংখ্যালঘুদের ৯১৫টি বাড়িঘরে ও ৯৫৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর ৩৪টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের, যাদের বসতবাড়িতে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সহিংসতায় ৬৯টি উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ঐক্য পরিষদ বলছে, আটটি বিভাগে সাম্প্রদায়িক হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাসগুপ্তসহ সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
