মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য করিডর নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে চীন। সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্য চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতে বিপর্যস্ত দেশটি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। কিন্তু পরবর্তীকালে সামরিক বাহিনী সহিংসতার কারণে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ রূপান্তরিত হয় বিস্তৃত সশস্ত্র বিদ্রোহে। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একাধিক লড়াইয়ে হারের মুখে পড়ে যুদ্ধে খানিকটা পিছিয়েও পড়েছে সরকারি বাহিনী। আর এসব ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে চীন সরকারের।
দীর্ঘদিন ধরেই এশিয়ার পরাশক্তি হয়ে উঠতে চায় চীন। সে লক্ষ্যে বেশ কিছু বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে বেইজিং। মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য করিডর নির্মাণ এর মধ্যে অন্যতম। বাণিজ্য পরিধি বাড়াতে মিয়ানমার হয়ে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমের ইউনান প্রদেশকে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা চীনের। সেখানে মিয়ানমারের সঙ্গে দুই হাজার কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে বেইজিংয়ের। প্রকল্পটির বাস্তবায়নে এরই মধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন। তবে সীমান্তবর্তী শান রাজ্যসহ পাশর্^বর্তী অঞ্চলগুলোতে সামরিক বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
গত জানুয়ারিতে সামরিক বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে একটি যুদ্ধরিরতি চুক্তির মধ্যস্থতা করেছিল চীন। তবে পরে সেটি ভেস্তে যায়। এতে ওই অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মসূচিও স্থগিত হয়ে যায়। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে চীন। সম্প্রতি নেপিদো সফর করে দেশটির শাসক মিন অং হ্লাইংকে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। আর এসব ঘটনায় দুই দেশের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে তিক্ত হতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। যে বাণিজ্য করিডর দিয়ে এশিয়ার ক্ষমতাধর হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল চীন, সেটিই এখন হয়ে উঠেছে তাদের গলার কাঁটা।
