বগুড়ার শাহজাহানপুরে দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া দুর্বৃত্তরা একজনের হাতের কবজি কেটে নিয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাবরুল ছোট মণ্ডল পাড়া সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- শাহজাহানপুরের সাবরুল হাটখোলা পাড়ার গোলাম তালুকদারের ছেলে সাগর তালুকদার (৩৫) ও একই এলাকার সাইফুলের ছেলে স্বপন (৩৩)। এ ঘটনায় ওই এলাকার আনসারের ছেলে মুক্তারের হাতের কবজি কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।
নিহতদের মধ্যে সাগর তালুকদার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। আর স্বপন তার সহযোগী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত সাগর তালুকদারের নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। জেলার শাহজাহানপুর, কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলার ৩০ গ্রামের মানুষ তার কাছে জিম্মি ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী ও শাহজাহানপুর থানা পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সাবরুল ছোট ম-ল পাড়ায় সাগর ও তার লোকজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। কুপিয়ে ঘটনাস্থলে সাগরের মৃত্যু নিশ্চিত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। প্রথমে এলাকাবাসী সাগরের লাশ শনাক্ত করে। পরে ওই স্থান থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে স্বপনের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শাহজাহানপুর থানার এসআই ফারুক দুজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের হিসাবে, সাগর তালুকদার দুটি হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজিসহ এক ডজন মামলার আসামি। নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বলে পরিচয় দিতেন। স্থানীয় ২৫-৩০ তরুণ যুবককে নিয়ে গড়ে তোলেন ‘সাগর বাহিনী’। প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে রীতিমতো ‘মূর্তিমান আতঙ্ক’ হয়ে ওঠে এই বাহিনী।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নাম ভাঙিয়ে শাহজাহানপুর, নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলার ৩০ গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন সাগর তালুকদার।
