ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে যুবক তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও যারা জড়িত রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আমাদের কাছে ছয়জন ছাত্রকে সোপর্দ করেছে। তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিছু ফাইন্ডিংস আমাদের জানিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বাকি যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত আছে। আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে, তদন্তে যদি আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।’
এ ঘটনায় আট ছাত্রের সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তাদের বহিষ্কার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমনটা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে শুরু থেকেই পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত ছিল। মামলার পর আমাদের ঊর্ধ্বতনরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অনুপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘যারা এখনো অনুপস্থিত, আপনারা জানেন আমাদের কিছু আইন ও বিধির মধ্যে চলতে হয়। চাকরিতে কিছু নিয়ম-কানুন আছে। সেই নিয়ম-কানুন বিধি অনুযায়ী যদি কেউ বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকেন তাহলে চাকরিবিধি মেনে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
মোহাম্মদপুরে জোড়া খুনের ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার : গত শুক্রবার মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বধ্যভূমিসংলগ্ন বেড়িবাঁধে নাসির বিশ্বাস (২৯) ও মুন্না (২২) নামে দুজনকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় মিরাজ মোল্লা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উপকমিশনার তালেবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই সুমন বিশ্বাসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মোহাম্মদপুর থানায় রবিবার একটি মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্তকালে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় রবিবারই মিরাজ মোল্লাকে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার মিরাজ মোল্লা এলাকার এলেক্স ইমন গ্রুপের সদস্য। এই গ্রুপ মোহাম্মদপুর এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মিরাজের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় আগের একটি মামলা রয়েছে।’ নাসির হত্যার সঠিক কারণ উদঘাটন করতে ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
