চট্টগ্রামের বাজারে কমছে না পেঁয়াজের ঝাঁজ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:৫৮ এএম

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিতে শুল্কহার হ্রাস ও সর্বনিম্ন দরের শর্ত প্রত্যাহার হলেও পেঁয়াজের বাজারে ঝাঁজ কমছে না। চট্টগ্রামে খুচরা বাজারে এখনো ১১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় পেঁয়াজ। আর ৯৮ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে।

ভোগ্যপণ্যের অন্যতম প্রধান পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, শুল্ক হ্রাসের ঘোষণার কথা বাজারে জানাজানি হয় গত ১৩ সেপ্টেম্বর। ওইদিন আড়তে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ১০৩ টাকা দরে বিক্রি হয়। কিন্তু ভারতের রপ্তানি শুল্ক ২০ শতাংশ হ্রাস ও পূর্বনির্ধারিত সর্বনিম্ন রপ্তানি দর প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ঘোষণার প্রভাব পড়তে থাকে পরদিন থেকে। ১৫ সেপ্টেম্বর খাতুনগঞ্জের বাজারে পাইকারিতে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি কেজিপ্রতি ৯৫ টাকায় নেমে আসে। এর মধ্যে কম শুল্কে আমদানি করা পেঁয়াজের চালানও ঢুকেছে বাজারে। কিন্তু শনিবার থেকে আবারও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়ে পেঁয়াজের দর।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়ার বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কম শুল্কের ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে আসার পর যে হারে দাম কমবে বলে আমরা আশা করেছিলাম, সে হারে কমেনি।’

তিনি জানান, এখন তিন ধরনের পেঁয়াজ বাজারে রয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৯৮ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৯৫ ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই ভারতীয় পেঁয়াজ ছাড়া অন্য কোনো পেঁয়াজ নেই। দোকানগুলোয় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়।

নগরীর লালখান বাজারের মুদি দোকানদার সালামত উল্লাহ এই প্রতিবেদককে বলেন, দাম বেশি হলেও ভারতীয় পেঁয়াজের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ। অন্য পেঁয়াজ খুব একটা চলে না। তাই খুচরা দোকানদাররা সাধারণত অন্য পেঁয়াজ রাখেন না।

গত বছর ৭ ডিসেম্বর থেকে ভারত সরকার হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে গত বছর ডিসেম্বর থেকে অস্থির হয়ে পড়ে দেশের পেঁয়াজের বাজার। টানা পাঁচ মাস পুরোপুরি বন্ধ থাকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি। গত মে মাস থেকে ভারত সরকার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও নতুন করে ৪০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করে এবং সর্বনিম্ন রপ্তানি মূল্য ৫৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত