মধ্যপ্রাচ্যে বাইডেনের চেষ্টা বিফলে!

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০২:০০ এএম

ক্রমেই সংঘাতের তীব্রতা বাড়ছে ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে। চলমান এই সংঘাতের কারণে সংকটের মুখে পড়েছে লেবাননের সাধারণ মানুষের জীবন। লেবাননে হামলার জবাবে ইসরায়েলের ভূখন্ডে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কাও বাড়ছে প্রবলভাবে। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসনের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্ক তিক্ত দুই প্রতিবেশী দেশের। এবার সেই তিক্ততা ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, চলমান এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। সংঘাত বন্ধ না হলে, দ্রুতই নতুন যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গাজার যুদ্ধ এবার লেবাননে বিস্তৃত করছে ইসরায়েল। তাদের একটানা বিমান হামলায় হিজবুল্লাহ বেশখানিকটা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সীমান্তের ওপারের পাহাড় ও শহরগুলোয় হিজবুল্লাহর কৌশলগত অবস্থান বদলে দিতে চায় ইসরায়েল। তবে লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জন্য দেশটির মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের দায় দেখছেন বিশ্লেষকরা। অনেক দিন ধরেই হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসর। তিন দেশের মধ্যস্থতার পরও যুদ্ধবিরতি চুক্তি আলোর মুখ দেখেনি। বাইডেন প্রশাসন থেকে তেল আবিবকে নানা সময়ে সতর্কবার্তা জানালেও, সেগুলোর অকার্যকারিতার কারণেই লেবাননে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে লেবাননে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ব্যবহৃত কয়েক হাজার পেজার ও ওয়াকিটকিতে একযোগে বিস্ফোরণ ঘটায় মোসাদ। লেবাননে হামলার বিষয়ে আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলের। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, এ বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছিল না তাদের কাছে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে বাড়তে থাকা সহিংসতার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য কিছুসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেয় পেন্টাগন। তবে কতজন সেনা পাঠানো হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৪০ হাজার সেনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। ২০০৬ সাল থেকে সীমান্তের এপার-ওপারে একে অন্যের স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল। তবে প্রায় দুই দশকের এই লড়াইয়ের মধ্যে গত সোমবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে তেল আবিব। এই হামলায় শিশু, নারীসহ সাড়ে ৫ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবারও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর প্রায় ১ হাজার ৬০০টি লক্ষ্যবস্তুতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির নানা অবকাঠামো, ঘাঁটি ও অস্ত্র মজুদাগার রয়েছে। এদিকে, ইসরায়েলের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করেছে হিজবুল্লাহও। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহরের মেগিডো এয়ারফিল্ডে হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ৬০ কিলোমিটার দূরের এক বিস্ফোরক কারখানা ধ্বংসের দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। তবে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানকে জড়াতে ইসরায়েল উসকানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাদের এই প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করতে পারে বলেও সতর্কতা জানিয়েছেন তিনি। আর তেমনটা হলে ইসরায়েলকে ‘অপরিবর্তনীয়’ পরিণতির বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন তিনি। সেখানেই গত সোমবার এসব কথা বলেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। লেবাননের সাম্প্রতিক হামলাকে ‘এই অঞ্চলকে বিশৃঙ্খলায় ফেলার প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তুরস্ক। গত সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে, অবিলম্বে এসব হামলার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন বন্ধের আহ্বান জানানা হয়। এ ছাড়া গাজায় যুদ্ধের অবসান ও লেবাননে সংঘাত কমাতে ইসরায়েল পর্যাপ্ত চাপের সম্মুখীন হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ ইয়ারাপেত্রিতিস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত