সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে মিয়ানমার জান্তা সরকার। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার গণতন্ত্রপন্থি পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা ছিল দেশটির সামরিক শাসকগোষ্ঠীর। ইয়াঙ্গুনের ট্রেনে চার পুলিশ অফিসারকে গুলি করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের মে মাসে তাদের অভিযুক্ত করে রায় ঘোষণা করা হয়। একই অভিযোগে গত সোমবার এক দম্পতির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে জান্তা সরকার। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে, দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।
এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের নারী অধিকার বিষয়ক সংগঠন উইমেন্স পিস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে মাউং কাউং হিতেত ও তার স্ত্রী চ্যান মিয়ায়ে থুয়ের ফাঁসি কার্যকর করে সেনাশাসিত সরকার। সংগঠনটির অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত ও শুনানি ছাড়াই ওই দম্পতিকে এক বোমা হামলায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে দণ্ডিত করা হয়েছে। জান্তা সরকারের দাবি, অভিযুক্ত ওই দম্পতি ২০২২ সালে ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারে পার্সেল বোমা বিস্ফোরণে জড়িত ছিল। ইনসেইন মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় কারাগার। এখানে বন্দিদের অধিকাংশই মূলত দেশটির সামরিক বাহিনীর ষড়যন্ত্রের শিকার।
সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘এভাবে মানুষকে হত্যা করতে থাকলে জান্তা সরকার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। এমনকি মিথ্যা অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আরও ১২০ জনের বেশি বন্দিকে হত্যা করতেও তারা পিছপা হবে না।’ সেই সঙ্গে সেনা সরকারের গোপন শুনানিতে দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা মানবাধিকারবিরোধী অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেশন মেকানিজম ফর মিয়ানমার-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান। এসব পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধ আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন তিনি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
