সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় ইসলাম

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০৯ এএম

ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে সংখ্যালঘুদের আবাসস্থল, ধর্মীয় উপাসনালয়, তাদের আয়ের অন্যতম উৎসস্থল তথা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এমনকি অগ্নিসংযোগ করা পৃথিবীর ইতিহাসে নতুন কোনো ঘটনা নয়। বর্তমান আধুনিক সভ্যতার যুগে এসব বর্বর ঘটনা অনেকের বিবেককে নাড়া না দিলেও শান্তির ধর্ম ইসলামে এগুলোকে অত্যন্ত ঘৃণ্য ও হত্যার চেয়েও জঘন্য কাজ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইসলাম এসব কর্মকাণ্ডকে মোটেও সমর্থন করে না। অর্থাৎ আরও স্পষ্টভাবে বললে এর অর্থ দাঁড়ায়, ইসলামের সঙ্গে এসবের কোনো সম্পর্ক নেই।

ইসলাম সবাইকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ এবং নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে। অর্থাৎ দেশের সব নাগরিক স্বাধীনভাবে তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে। এতে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অনুমতি ইসলাম দেয় না। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমার দ্বীন তোমাদের জন্য, আর আমার দ্বীন আমার জন্য।’ (সুরা কাফিরুন ৬)

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার ব্যাপারেও কারও ওপর কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ বা জোর-জবরদস্তি করার সুযোগ নেই। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘ধর্মের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই।’ (সুরা বাকারা ২৫৬) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থাকবে। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী অনেক জাতি দ্বীনের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন করার কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে।’ (নাসায়ি)

হিজরত করার পর সম্প্রীতি ও শান্তির একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় বসবাসরত ইহুদি, পৌত্তলিক, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র সব লোকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এমনকি সেখানে মদিনা সনদের মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে একটি অহিংস জাতি গঠন করেন। ইসলাম মানুষকে সহনশীল হতে শেখায়, ইসলাম মানুষকে মানবিক হতে শেখায়। যার অনন্য উদাহরণ ‘উহুদ যুদ্ধে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচা হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিবকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করেন ওয়াহশি ইবনে হারব। পরবর্তী সময় ওয়াহশি যখন রাসুল (সা.)-এর কাছে আশ্রয়ের জন্য আসেন তখন রাসুল (সা.) ওয়াহশিকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। আর এর মাধ্যমেই রাসুল (সা.) শিখিয়েছেন প্রতিশোধ নেওয়ার ভেতরে কোনো কল্যাণ নেই বরং ক্ষমা করে দেওয়াই উত্তম।’ (আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া)

শুধু ইসলামি রাষ্ট্র নয় বরং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও ইসলাম সংখ্যালঘুদের জন্য সুরক্ষার কথা বলে। পাশাপাশি তারা যেন তাদের সব ধরনের অধিকার নির্বিঘেœ ভোগ করতে পারে এর জন্য সব প্রকার সহযোগিতা করতে সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকদের ওপর ইসলাম নির্দেশ প্রদান করে। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যদি কোনো অন্যায়-আপত্তিকর কিছু দেখে, তবে সে যেন নিজের হাত দ্বারা তা প্রতিহত করে। এটা সম্ভব না হলে, সে যেন তার মুখ দিয়ে সেটার প্রতিবাদ করে। এটাও সম্ভব না হলে, সে যেন তার অন্তর দিয়ে  সেটার প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। আর এটা হলো ইমানের সর্বনিম্ন স্তর।’ (সহিহ মুসলিম)

পথহারা ও বিভ্রান্ত মানবতার মুক্তির জন্য মহান আল্লাহ যুগে যুগে পৃথিবীতে অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। আর তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই, তা হলো শান্তির সুবাতাস পৃথিবীর প্রতিটি কোনায় কোনায় পৌঁছে দেওয়া।

৬৩২ খ্রিস্টাব্দে আরাফাতের ময়দানে লক্ষাধিক সাহাবির উপস্থিতিতে বিদায় হজের ভাষণে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও জন্য তার অপর ভাইয়ের কোনো কিছু গ্রহণ বৈধ নয়; যতক্ষণ না সে নিজে সন্তুষ্টচিত্তে তা প্রদান করে। আর তোমরা কখনো দুর্বলের প্রতি অত্যাচার করবে না। কখনো একে অন্যের ওপর জুলুম করবে না।’ বস্তুত সব নাগরিকের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কোরআন-সুন্নাহ তথা ইসলামি নীতি ও আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত