'এক ব্যক্তি কোনো পদে দুই মেয়াদের বেশি নয়'

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৪৯ পিএম

ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক উন্নয়নে ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, কোচ, রেফারিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ঘোষণা দিয়েছেন যে, এক ব্যক্তি কোনো পদে দুই মেয়াদের বেশি থাকতে পারবে না। শুক্রবার এনএসসি টাওয়ারে এই ঘোষণা দেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। যুগান্তকারী এই সিদ্ধান্তের ফলে যুগের পর যুগ ফেডারেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ আকড়ে থাকা বেশ কিছু পরিচিত মুখের বিদায় সমাগত।

বাংলাদেশে পঞ্চাশোর্ধ ক্রীড়া ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশনের পাশাপাশি রয়েছে প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় ক্রীড়া সংস্থা। এরকম অনেক ফেডারেশনেই সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ একজন ব্যক্তি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দখল করে রেখেছেন। বাংলাদেশ অ্যমেচার কুস্তি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তাবিবুর রহমান পাওয়ান চার দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পদাক আসাদুজ্জামান কোহিনুর প্রায় তিন দশক, বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক একে সরকার প্রায় আড়াই দশক একই পদে আছেন।

গেল ১৫ বছরে আওয়ামী সরকারের আমলে ক্রীড়া ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন ও সংস্থাগুলোতে নির্বাচনের নামে হয়েছে প্রহসন। অযোগ্য, অদক্ষ অনেক ব্যক্তি কেবলমাত্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন অনেক ফেডারেশনে। তবে বেশ কয়েকটি ফেডারেশনের শীর্ষ বেশ ক’জন কর্তাকে দেখা গেছে বছরের পর বছর পদ আঁকড়ে রাখতে। তারা কেবল দায়িত্বই দখলে রেখেছেন খেলাটার সত্যিকারের উন্নতি করতে পারেননি।

নতুন উপদেষ্টা ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কারের উদ্যোগের প্রথম ধাপে ৪৫টি ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিদের অব্যাহতি দেন। এর আগে সবক’টি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাও ভেঙে দেন। ক্রীড়াঙ্গনকে গতিশীল করতে একটি সার্চ কমিটি গঠন করেন, যাদের ২ মাসের মধ্যে একটি প্রস্তাবনা দিতে বলা হয়েছে। শুক্রবার গোটা ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি, যেখানে ফেডারেশনের চেয়ার চীরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে ফেলাদের দেন কড়া হুশিয়ারি। এছাড়া ফেডারেশনগুলোর আর্থিক সচ্ছ্বলতা নিশ্চিতে ফি বছর আয়-ব্যায়ের অডিট রিপোর্ট এবং প্রগ্রেস রিপোর্ট জানানোর নির্দেশনা দেন উপদেষ্টা। একই সঙ্গে সর্বস্তরের জবাবদিহিতা করতে বলেন।

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকেই ফেডারেশনের পদকে দায়িত্ব নয়, ক্ষমতার অংশ মনে করে। আমরা সেটা রোধে কাজ করছি।’

 

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে রাজনীতির প্রভাব রয়েছে। বিগত সময়ের মতো আগামীতে যেন রাজনীতিকরণ না হয় সেদিকে যথেষ্ট মনোযোগ ক্রীড়া উপদেষ্টার, ‘ক্রীড়াঙ্গনে বিরাজনীতিকরণ নিয়ে আমরা কাজ করছি। একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে কিন্তু ক্রীড়াঙ্গনে যেন প্রভাব যেন না আসে।’

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ফেডারেশনের খেলোয়ড়, কোচ, কর্মকর্তা, রেফারি আমন্ত্রিত  হয়ে এসেছিলেন। ক্রীড়া উপদেষ্টাকে কাছে পেয়ে অনেকে নিজেদের মতামত তুুলে ধরতে চেয়েছিলেন। কয়েকবার হাত উঠিয়েও বক্তব্য দিতে পারেননি। একজন মাইক না পেয়ে পুরো মিলনায়তন ঘুরেছেন। এ নিয়ে মিলনায়তনে খানিকটা হট্টগোল হয়েছে। বিশৃঙ্খলতা চোখ এড়ায়নি ক্রীড়া উপদেষ্টার।

তাই বক্তব্যের শুরুতেই তিনি এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন, ‘খেলাধূলা আমাদের শৃঙ্খলা শেখায়। যা জাতীয় জীবনেও শিক্ষনীয়। এখানে আপনারা অনেক বর্তমান-সাবেক খেলোয়াড়-কোচ রয়েছেন। আপনাদের মধ্যে শৃঙ্খলার যথেষ্ট অভাব। আগামীতে আপনারা ফেডারেশনে আসলে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত