একদিকে মধ্যস্থতা অন্যদিকে উসকানি

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০১:৩৭ এএম

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতে ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় বিপর্যস্ত লেবানন। রাজধানী বৈরুতসহ হিজবুল্লাহর ঘাঁটিগুলোতে বিমান হামলায় মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। যাদের একটি বড় অংশই নারী, শিশু ও বেসামরিক নাগরিক। ইসরায়েলের হামলা থেকে জীবন বাঁচাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় এক লাখ লেবানিজ। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আগ্রাসনের কারণে নানা সময়ে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে আসছে হিজবুল্লাহ। তার জেরেই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে এই সর্বাত্মক অভিযান চালাচ্ছে তেল আবিব। সংঘাত কমাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও হিজবুল্লাহর স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। তেল আবিবের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমাতে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে আসছে ওয়াশিংটন। তবে এর পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গেও নিজেদের সুসম্পর্ক বজায় রেখে আসছে দেশটি। এমন দ্বৈত নীতির কারণে সমালোচনার মুখে পড়লেও ইসরায়েলকে নিয়মিতভাবে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের হামলায় মধ্যপ্রাচ্য যখন এলোমেলো, তখন আবারও দেশটিকে ৮৭০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ইয়াল জামির ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে পেন্টাগনে একটি বৈঠক শেষে এই সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলের চলমান সামরিক প্রচেষ্টার সমর্থনে ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটি। নতুন এই সহায়তা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও। এই প্যাকেজের অর্থ দুই ভাগে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধকালীন অপরিহার্য সব দ্রব্য ক্রয়ের জন্য ৩৫০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য দেওয়া হয়েছে ৫২০ কোটি ডলার। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দেশের জটিল ও সংবেদনশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে এই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মধ্যে রয়েছে আয়রন ডোম নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডেভিড’স  স্লিং ও অত্যাধুনিক উচ্চ-ক্ষমতা সম্পন্ন লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।’ এই সহায়তা চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব ও ইসরায়েলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছে তেল আবিব।

গত বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পর এক জরুরি বৈঠকে বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১২টি দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতার জন্য লেবাননে ২১ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয় সে বৈঠক থেকে। শুরুতে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও, লেবাননে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিবৃতিতে সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। মানুষকে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা কী করতে পারি, তা নিয়ে আমরা মত বিনিময় করছি। সামনের দিনগুলোতে আমাদের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’ ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তের বাসিন্দারা যেন নিজ বাড়িতে নিরাপদে ফিরতে পারেন সে বিষয়ে দুই দেশই বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

এদিকে, বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় বৃহস্পতিবার সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ড্রোন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ সুরুর নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দুপক্ষই এ খবর নিশ্চিত করেছে। হিজবুল্লাহর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জনবহুল এলাকায় গোষ্ঠীটির কমান্ডারদের লক্ষ্য করে এ নিয়ে এ সপ্তাহে চতুর্থবারের মতো হামলার ঘটনা ঘটল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত