শিশুদের প্রতি নবীজির ভালোবাসা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৫৩ পিএম

হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন বড়দের জন্য আদর্শ ছিলেন, তেমনি ছিলেন শিশুদের জন্যও। শিশুর প্রতি তার আদর্শ বুঝা যায় তার কথা ও কাজ দ্বারা। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ছোটদের স্নেহ করে না, বড়দের সম্মান দেখায় না, সে আমার দলভুক্ত নয়। (জামে তিরমিজি) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, একবার হজরত রাসুল (সা.) তার নাতি হাসান (রা.)-কে চুমু খেলেন। সেখানে আকরা ইবনে হারেস (রা.) উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, আমি দশ সন্তানের বাবা। কিন্তু আমি তাদের কাউকে চুমু খাইনি। রাসুল (সা.) তার দিকে তাকিয়ে বললেন, যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না। (সহিহ বুখারি)

হজরত খাদিজা (রা.)-এর ক্রীতদাস হজরত যায়েদ ইবনে হারেসার পুত্র ছিলেন উসামা (রা.)। শিশু উসামা (রা.) হজরত রাসুল (সা.)-এর একান্ত স্নেহধন্য ছিলেন। রাসুল (সা.) উসামা (রা.)-কে হুসাইনের মতোই ভালোবাসতেন। তিনি উসামাকে নিজের ধারে-কাছেই রাখতেন। তার নাক পরিষ্কার করে দিতেন। শিশু উসামা একবার দরজার চৌকাঠে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলেন। তার কপাল কেটে রক্ত বের হতে লাগল। রাসুল (সা.) প্রথমে হজরত আয়েশা (রা.)-কে রক্ত মুছে দিতে বললেন। কিন্তু তাতে স্বস্তি পেলেন না। তিনি নিজেই উঠে গিয়ে রক্ত মুছে ক্ষতস্থানে চুমু দিতে লাগলেন এবং মিষ্টি-মধুর কথা বলে তাকে আশ্বস্ত করতে লাগলেন।

হজরত রাসুল (সা.) শিশুর মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করতেন। কখনো আবার চিবুক বা গণ্ডদেশে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিতেন। হাস্য-রসিকতায় তাদের সঙ্গে মেতে উঠতেন। মন খারাপের দিনে তাদের ভাঙা মনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করতেন। সর্বদা আদর ও স্নেহমাখা আচরণে তাদের মন জয় করতেন। তিনি শিশুদের অনুরাগ-অনুভূতির মূল্যায়ন করতেন। তাদের বিনোদনের ব্যবস্থা করতেন। আনন্দ দানের জন্য কাঁধে তুলে নিতেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, একবার দেখলাম, নবীজি (সা.) হুসাইনকে কাঁধে তুলে রেখেছেন, আর তার লালা নবীজি (সা.)-এর শরীরে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে। (সুনানে ইবনে মাজাহ) নবীজি (সা.)-এর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও মমতা সবার জন্য নিবেদিত। তিনি শিশুদের খুব ভালোবাসতেন, আদর করতেন, স্নেহ করতেন। কাজেই আমাদেরও উচিত শিশুদের আন্তরিকভাবে ভালোবাসা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত