তবুও মাহমুদউল্লাহ টি-টোয়েন্টি দলে

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০২:২১ এএম

দিন তিনেক আগেই সাকিব আল হাসান তার টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ভারতে পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নতুনদের সুযোগ করে দিতেই আসন্ন সিরিজে তিনি থাকছেন না। যুক্তরাষ্ট্র আর ক্যারিবিয়ানে হয়ে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। সেই আসরে একটা ম্যাচ জেতানো হাফসেঞ্চুরিসহ ১১১ রান করে আর ৩ উইকেট নিয়েও সাঁইত্রিশের সাকিব আল হাসান জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের জন্য। যেমনটা বিশ্বকাপের পর করেছেন বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, রবীন্দ্র জাদেজারা। অথচ চল্লিশ ছুঁই ছুঁই মাহমুদউল্লাহ বিশ্বকাপে প্রবল নেতিবাচক ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দেখিয়েও থেকে গেলেন এবং ভারত সিরিজের দলেও তাকে সুযোগ দিলেন নির্বাচকরা। ঘরের মাঠে ভারত তারুণ্যদীপ্ত দল ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশের দলেও তরুণদের সুযোগ মিলেছে সেই সঙ্গে ফেরানো হয়েছে অভিজ্ঞদেরও। মাহমুদউল্লাহ যেমন ডাক পেয়েছেন, তেমনি ১৪ মাস পর টি-টোয়েন্টি দলে এসেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। জায়গা হয়নি অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনের।

বড় পরিবর্তনটা এসেছে উদ্বোধনী জুটিতে। বাদ গেছেন সৌম্য সরকার। বিশ্বকাপে দলের প্রথম ও শেষ ম্যাচে একাদশে ছিলেন, শূন্য দিয়ে শুরু আর ১০ রানে শেষ। এই ছিল সৌম্যর বিশ্বকাপ, চ-িকা হাথুরুসিংহের ‘স্নেহধন্য’ এই ক্রিকেটারকে অবশেষে বাদ দিয়েছেন নির্বাচকরা। এসেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। স্পিন ডিপার্টমেন্টে সাকিব নেই, এসেছেন আরেক অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। অফস্পিন করেন আবার ব্যাটও করেন এ রকম আরেকজন শেখ মেহেদিও আছেন দলে। তবে সাকিব না থাকায় মিরাজের কাছ থেকে ব্যাটিং নিয়ে প্রত্যাশাটাই বেশি বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন তার জায়গা ধরে রেখেছেন। পেস আক্রমণ বিশ্বকাপেরটাই আছে; তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিব। বামহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান এসেছেন হাত ভেঙে যাওয়া তানভির ইসলামের জায়গায়।

প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু জানিয়েছেন, পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে এই সংস্করণে ভালো ক্রিকেটার বের করে আনার জন্য বিশেষ উদ্যোগের কথা, ‘অক্টোবরে ওমানে ইমার্জিং এশিয়া কাপ হবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে, যেখানে বাংলাদেশ খেলবে শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও হংকং-এর গ্রুপে। অন্য গ্রুপে ভারত, পাকিস্তান ও অন্যান্য দল খেলবে। সেখানেও আমরা বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে পরখ করার সুযোগ পাব। এরপর এই বছর এনসিএলে টি-টোয়েন্টি হবে সেখানে প্রত্যেকটা খেলোয়াড় ৭টা করে ম্যাচ খেলতে পারবে। এরপর বিপিএল আছে যেখানে এক জন খেলোয়াড় ১৪ থেকে ১৬টা ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি এই বছরের হিসাব যদি নাও করি, আগামী বছর থেকে ধরলে সেটাও প্রায় ১৮টা ম্যাচ। এশিয়া কাপ হলে সংখ্যাটা বেড়ে ২১-২২ হতে পারে। এরপর পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আবার এনসিএল ও বিপিএল থাকবে। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় ৬০-৭০টা ম্যাচ অপেক্ষা করছে। আমাদের আগামী দলটা কেমন হবে সেটার রূপরেখা কিছুটা এই দলে আছে।’ একই সঙ্গে লিপু জানিয়েছেন, ‘অভিজ্ঞতাকে আমরা ছেড়ে দিচ্ছি না, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এই দলে আছেন, প্রয়োজনে তিনিও যাতে দলের হাল ধরতে পারেন সেই ব্যবস্থাটা আমরা রাখছি। আমাদের সেই আস্থাটা তার ওপর আছে, ক্যাপ্টেনের কাছে সব রকম কম্বিনেশনেরই একটা অপশন এই দলের ভেতর পাবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত