ধনীদের ঋণ দিতেই আগ্রহ বেশি ব্যাংকগুলোর

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৪, ১২:১৬ এএম

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার কম। কম অঙ্কের গ্রাহকরা ব্যাংকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে নিগৃহীত হন বেশি। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোটিপতি না হলে ফিরে আসতে হয় খালি হাতেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৭৮ শতাংশই কোটিপতি আমানতকারীদের।

ব্যাংকের লাখ টাকার নিচের আমানত ও ঋণগ্রহীতাদের সাধারণত নিম্ন আয়ের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চলতি বছরের জুন শেষে ওই গ্রাহকদের মোট ঋণের পরিমাণ ২ শতাংশেরও নিচে। অথচ কোটিপতি ঋণগ্রহীতারা দেশের প্রায় ৭৮ শতাংশ ঋণই দখল করে রেখেছেন। আর অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি গ্রাহকদের ভাগ্যে জুটেছে ঋণের মাত্র ২২ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহৎ ঋণের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্রঋণের গ্রাহকরা। কিন্তু দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন ছোট উদ্যোক্তারাই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতের আমানতকারীর সংখ্যা ১৫ কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫২৩ জন। তাদের হিসাবে জমাকৃত টাকার পরিমাণ ১৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩ কোটি টাকা। একই সময়ে ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ১০১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো, যেখানে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৬ জন। অর্থাৎ ১২ জনের জমাকৃত টাকা ভোগ করছেন মাত্র একজন। এটা ছিল সার্বিক হিসাব। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ব্যাংকঋণের বেশিরভাগই ভোগ করছেন কোটিপতি গ্রাহক। বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের হাজারো উদ্যোক্তা।

তথ্য বলছে, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক, মুটে, মজুর, দোকানদারের খুব বেশি ঋণের প্রয়োজন হয় না। তারা কখনো ৫০ হাজার; ১ লাখ বা ব্যবসাভেদে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। আর নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণের প্রয়োজন হয় ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এর বাইরে কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেন মধ্যম আয়ের চাকরিজীবীরা। যারা বাড়ি এবং গাড়ির জন্য ঋণ নিয়ে থাকেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত মাত্র ৩ হাজার ৮০৬ জন গ্রাহক ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ২৭ দশমিক ৬৯ শতাংশই দখলে নিয়েছেন। অথচ, নিম্ন আয়ের মানুষ বা লাখ টাকার নিচের ঋণগ্রহীতারা মাত্র ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ঋণ নিয়েছেন। এসব গ্রাহকের নেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ ৩২ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বা ১-৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া গ্রাহকদের ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এসব গ্রাহকের নেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ ৭৩ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। আর নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণের প্রয়োজন হয় ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এসব গ্রাহক জুন পর্যন্ত ব্যাংক থেকে মোট ঋণের ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ ঋণ গ্রহণ করেছেন। তাদের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা। এর বাইরে মধ্যম আয়ের চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী বা কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়া গ্রাহকরা ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ ঋণ নিয়েছেন। তাদের নেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ ৮৯ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩ হাজার ৮০৬ জন গ্রাহক ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ২৭ দশমিক ৬৯ শতাংশই দখলে নিয়েছেন। ৫০ কোটি টাকার বেশি এসব ঋণগ্রহীতার মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। ২০ কোটি টাকার ওপরে ঋণ নিয়েছেন এমন গ্রাহকের সংখ্যা ১১ হাজার ৪৮৩ জন, যাদের কাছে আছে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংক খাতের মাধ্যমে বিতরণকৃত মোট ঋণের ৪২ দশমিক ৮২ শতাংশ। ৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, এমন গ্রাহকের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৭৯৭ জন। তাদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা।

হিসাব অনুযায়ী ব্যাংকের মোট ঋণের ৬১ দশমিক ৬৫ শতাংশ রয়েছে এসব গ্রাহকের কাছে। ১ কোটি টাকার ওপরে ঋণ নিয়েছেন এমন গ্রাহকের সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৯০ জন। তাদের হাতে রয়েছে বিতরণকৃত মোট ঋণের ৭৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। অঙ্কে যার পরিমাণ ১২ লাখ ৪২ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত