স্থায়ী কমিটির বৈঠক

আ.লীগ নেতাদের পালানো নিয়ে প্রশ্ন বিএনপিতে

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৪, ০২:০৪ এএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যায় জড়িত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগী মন্ত্রী-এমপিসহ আওয়ামী লীগ নেতারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে দেশ ছেড়ে পালালেন সেই প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। এ ছাড়া গণ-অভ্যুত্থানের দুই মাসের মাথায়ও গণহত্যায় জড়িতদের মধ্যে যারা এরই মধ্যে হত্যা মামলার আসামি হয়েছেন, তারা কেন গ্রেপ্তার হচ্ছেন না সেই প্রশ্নও তুলেছেন দলটির নেতারা। গত মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় বলে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কয়েকজন সদস্য বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে তারা (শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা) পালালেন তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছেও জানতে চাইবেন।

সভায় দেশের চলমান পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়েও সদস্যরা আলোচনা করেন। তারা বুঝতে চাইছেন, দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে সংস্কার করতে চাইছে, সংস্কারের রোডম্যাপ কেন দেওয়া হচ্ছে না, সংস্কার কবে নাগাদ হবে এসব বিষয়েও বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন আছে। কয়েকজন নেতা মনে করেন, সংস্কারে সরকার সময়ক্ষেপণ করছে।

এ বিষয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কেউ উদ্ধৃত হতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, তারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখতে পেয়েছেন, পতিত শেখ হাসিনা সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তাদের কাউকে কাউকে ভারতের বিভিন্ন মাজার ও পার্কেও দেখা গেছে। হত্যা মামলার পরেও এসব আসামি কীভাবে পালালেন, কারা তাদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে, এসব বিষয়ে জনমনে যথেষ্ট প্রশ্ন ও উদ্বেগ আছে।

সংস্কারের বিষয়ে দলীয় অবস্থান ঠিক করতে ছয় কমিটি : স্থায়ী কমিটির গত মঙ্গলবারের বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগের বিষয়ে দলীয় অবস্থান ঠিক করতে ছয়টি কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। এই কমিটিগুলো অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কার বিষয়ে দলের কর্ম-কৌশল ঠিক করে তা জাতির সামনে তুলে ধরবে। দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে তাদের পক্ষ থেকে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরা হবে। প্রস্তাবিত ছয়টি কমিটির মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংবিধান পুনর্গঠন কমিটির আহ্বায়ক, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিটির, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে পুলিশ বিভাগ সংস্কার কমিটির, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে প্রশাসন সংস্কার কমিটির, সাবেক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীকে দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিটির এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে নির্বাচন কমিশনবিষয়ক সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত