জান্তার শুমারি বয়কট বিরোধীদের

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:৪২ এএম

২০২৫ সালের নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে দেশ জুড়ে আদমশুমারির কাজ শুরু করেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। গত জুনে মান্দালয়ে সামরিক বাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। সম্প্রতি অস্ত্র পরিহার করে বিদ্রোহী ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আলোচনায় বসার তাগিদ দিয়েছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে বিদ্রোহীদেরও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয় জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে। তবে জান্তাবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন বয়কটের ডাক দেয়।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতি জানিয়েছে, রাজধানী নেইপিদোসহ অন্যান্য ছোট-বড় শহর ও গ্রামগুলোর বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন সদস্যরা শুমারি পরিচালনাকারী দলের সদস্যরা। জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার আশঙ্কা থাকায় শুমারি পরিচালনাকারী দলের সদস্যদের জন্য কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে সামরিক সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই আদমশুমারির কাজ চলবে।

ক্ষমতাসীন জান্তার সরকারের এক মুখপাত্র জানান, স্কুল শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পুলিশ ও সেনাসদস্যদের একটি সম্মিলিত দল এই শুমারির কাজ করবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে সদ্য সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করা জুনিয়র সেনাসদস্যরা। আদমশুমারির বিষয়টিকে জান্তা সরকারের আরও দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কৌশল বলে অভিহিত করেছে চীন রাজ্যের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী চীন ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স।

কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি সামরিক সরকার। এবারও জান্তা সরকার সে পথেই হাঁটবে বলে মনে করছেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। গত ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রদেশে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই করছে জান্তাবিরোধী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাদের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে জান্তা সরকার। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মিয়ানমারের মোট ভূখ-ের অন্তত এক পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে জান্তাবিরোধী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। ফলে তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন কতখানি সুষ্ঠু হবে সে নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত