চলচ্চিত্রে মাস্টার্স করার ইচ্ছে আছে

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:৫২ এএম

তিন বছর আগে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে ‘আমার বাংলাদেশ’ শিরোনামে সাড়ে তিন মিনিটের একটি ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ করেছিলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, যেটি সে সময় দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। সেই গল্পে বাংলাদেশি মেয়ে জুঁই চরিত্রে অভিনয় করা নিদ্রা দে নেহা দর্শকের কাছে বেশ পরিচিতি পান।

২০২০ সালে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরা দশে ছিলেন, আর সেই থেকে শুরু। এরপর কাজ করেছেন বিজ্ঞাপন, নাটক এবং সিনেমাতেও।

নেহা জানান, শুরু থেকেই তার ইচ্ছে ছিল সিনেমা করার। সে লক্ষ্যেই ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন। নিজেকে বড় পর্দায় দেখার সুপ্ত বাসনা লালন করছেন মনে।

তিনি বলেন, ‘প্রাণের একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে কাজ শুরু করি এরপর আরেকটা বিজ্ঞাপন করেছিলাম কিন্তু সেটি আর প্রচার হয়নি। এরপর ফারুকী ভাইয়ের ‘আমার বাংলাদেশ’ বিজ্ঞাপনটি করি এবং এই কাজটি দিয়ে সবার কাছে পরিচিতি পেতে শুরু করি। এটা আমার জন্য একটা টার্নিং পয়েন্ট বলা যেতে পারে। এই কাজটা আমার জন্য অনেক হেল্প করেছে, তা নাহলে আমাকে আরও অনেক বেশি স্ট্রাগল করতে হতো। এরপর অনেক কাজেরই প্রস্তাব পেতে শুরু করি। আমার মূল টার্গেট আসলে সিনেমা।

‘শুরুতে একটানা মডেলিং করেছি। দেশের সব নামি ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছি। র‌্যাম্পেও হেঁটেছি। একটা সময় আমার বন্ধু-বান্ধবরা বলতে লাগল যে, ‘তোর ভিজ্যুয়ালি প্রেজেন্স ভালো, ভিজ্যুয়ালে কাজ কর।’ এরপর ট্রাই করতে শুরু করলাম, বিভিন্ন জায়গায় অডিশন দিলাম, কিন্তু সব জায়গা থেকেই হতাশ হয়েছি। ওই সময়টাতে আমি অনেকটা ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। এরপরই ফারুকী ভাইয়ার কাজের প্রস্তাবটা আসে এবং আমার সবকিছুই একটু একটু করে বদলাতে শুরু করে। যোগ করেন নেহা।

অক্টোবরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার সিনেমা ‘শরতের জবা’। কুসুম শিকদারের পরিচালনায় এতে নেহা জুটি বেঁধেছেন জিতু আহসানের সঙ্গে। সিনেমাটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি আমার প্রথম সিনেমা। এখানে কুসুম শিকদার আপু, ইয়াশ রোহান ভাইয়ার মতো সহশিল্পী পেয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমার সঙ্গে জুটি ছিলেন জিতু আহসান ভাই, যাকে আমরা ছোটবেলা থেকে দেখেছি। ওনাদের কাছে আমি খুবই নগণ্য। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

এ ছাড়া আরেক সিনেমা ‘নীল জোছনা’ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, সিনেমাটিতে নির্বাচিত হওয়ার পর জানতে পারি যে, ওপার বাংলার অভিনেত্রী পাওলি দামের সঙ্গে অভিনয় করছি। ছবিটি পরিচালনা করছেন ফাখরুল আরেফীন খান। এতে বাংলাদেশের গুণী শিল্পী মেহের আফরোজ শাওন আপা, পার্থ বড়–য়া দাদা, এফ এস নাঈম ভাই, ইন্তেখাব দিনার ভাই আছেন। আমার বিপরীতে আছেন নাফিস ভাইয়া। এত এত গুণী মানুষের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার ছিল।

নায়িকা নয়, নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান নেহা। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো নায়িকা হতে চাই না। নায়িকা হতে হবে বা গ্ল্যামারাস হতে হবে এমন কোনো ইচ্ছেই নেই আমার। আমি বিভিন্ন চরিত্র প্লে করতে চাই। অভিনয়টা ভালো করে শিখতে চাই। আমার কাছে কোনো স্ক্রিপ্ট এলে কখনোই জিজ্ঞেস করি না এটা লিড ক্যারেক্টার কি না, বা আমার বিপরীতে কে কাজ করছেন! আমার ফোকাস শুধু স্ক্রিপ্টের দিকে, আর প্রশ্ন থাকে যে, আমার চরিত্রটা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, সেটা!’

নায়িকা হতে না চাওয়া প্রসঙ্গে নেহা বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, নায়ক বা নায়িকাদের সময়টা খুব বেশিদিন থাকে না। তাদের চার্মটা খুব অল্প সময় থাকে। একটা সময় পর শেষ হয়ে যায়। তাদের ওই ফ্লেক্সিবিলিটিটা থাকে না যেটা একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর আজীবন থাকে। অভিনেত্রীদের সুযোগটা থাকে বেশি। এর জন্য আমার নায়িকা হওয়ার ইচ্ছা কখনোই জাগেনি। অভিনয়ের ওপর কিংবা চলচ্চিত্রের ওপর মাস্টার্স করার ইচ্ছে আছে। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার সঙ্গেও থাকতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, প্রথমদিকে কাজ নিয়ে খুব একটা সিরিয়াস ছিলাম না। কাজ আসত করতাম, ইচ্ছে নাহলে করতাম না। ফিকশনে আমার শুরুটা ওটিটি দিয়ে। মাঝখানে চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপনও করেছি। নাটকে ভালো গল্পের অপেক্ষায় ছিলাম। এখন সবটুকু মনোযোগ অভিনয়ের দিকেই। এটাই ধ্যান-জ্ঞান বলা চলে। এটাকে নিয়েই সামনে এগোতে চাই।

ইতিমধ্যে নাটক ও ওয়েবে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন নেহা। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার ‘শরতের জবা’, ‘নীল জোছনা’, ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’ সিনেমা ও সিরিজগুলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত