দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঊর্ধ্বমুখী। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ২২ জন ভর্তি হয়েছে। এতে এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ১২১ জনে। এ সময়ে নতুন করে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর রোগটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৭ জনে।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি হয়েছে ৪১০ জন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ১৮২, বরিশালে ৯৩, চট্টগ্রামে ১৪৩, খুলনায় ১১৯, ময়মনসিংহে ৪২ ও রাজশাহীতে ২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এসব রোগীর ৬৫ শতাংশ বা ৬৬৩ জন পুরুষ ও ৩৫ শতাংশ বা ৩৫৯ জন নারী।
এ বছরের মোট ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৬৩ শতাংশ বা ২১ হাজার ৫৪১ জন পুরুষ এবং ৩৭ শতাংশ বা ১২ হাজার ৫৮০ জন নারী।
ডেঙ্গুতে এ বছর এখন পর্যন্ত পুরুষ মারা গেছে ৮৬ জন, যা মোট মৃত্যুর ৪৯ শতাংশ ও নারী মারা গেছে ৯১ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫১ শতাংশ।
দেশে প্রতি বছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। গত ২০২৩ সালের জুন থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সে বছর দেশে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। এ সংখ্যা দেশে গত ২৩ বছরের ডেঙ্গুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ওই বছরের মোট রোগীর মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ১০ হাজার ৮ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নেয় ২ লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন।
গত বছর ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৭০৫ জন মারা যায়। মৃত্যুর এই সংখ্যাও দেশে ডেঙ্গুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এর আগে ২০১৯ সালে দেশব্যাপী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন। ওই সময় চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রায় ৩০০ জন মারা যায়।
২০২০ সালে করোনা মহামারীকালে ডেঙ্গুর সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হয় ২৮ হাজার ৪২৯ জন। ওই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ১০৫ জন।
এ ছাড়া ২০২২ সালে ডেঙ্গু নিয়ে ৬২ হাজার ৩৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয় ও মারা যায় ২৮১ জন।