ঢাকায় আনোয়ার ইব্রাহিম

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কি খুুলবে?

  • ১ আগস্ট থেকে বন্ধ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
  • ইতিবাচক সাড়ার অপেক্ষায় কর্মীরা
  • দক্ষদের বিষয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার দাবিৃ
আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:২২ পিএম

জনশক্তি রপ্তানির নিরিখে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। দেশটি বাংলাদেশের রমরমা শ্রমবাজার হলেও দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে গত ১ আগস্ট তা বন্ধ হয়েছে। এতে সে সময় ভিসা-পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুর। দেশটিতে যেতে না পারাদের অনেকেই মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে আগমন ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।

এদিকে মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রীর সফরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘৪ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠককালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনশক্তি প্রেরণ, উচ্চশিক্ষা সহযোগিতা, ব্যবসা ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এসব বৈঠক থেকে বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহায়তা চাওয়া হবে। আসিয়ান কাঠামোর মধ্যে ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মালয়েশিয়া শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়ার অপেক্ষায় আছেন দেশটিতে যেতে না পারা কর্মীরা।

নাটোরের ইলিয়াস হোসেন ৬ লাখ টাকা দিয়েও গত ১ আগস্টের আগে মালয়েশিয়া যেতে পারেননি। পরে অবশ্য ৬ লাখ টাকার মধ্যে ফেরত পেয়েছেন সাড়ে চার লাখ টাকা। বাকী অর্থ এখন পর্যন্ত ফেরত পাননি। ইলিয়াস এখনও মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহী। 

মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশে সফর ঘিরে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি তিনি (ড. ইউনূস)  শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলবেন। আমরা এখনও মালয়েশিয়া যেতে প্রস্তুত। কারণ ঋণের বোঝা নিয়ে এখনও আমাদের চলতে হচ্ছে। আগের চুক্তি অনুযায়ী আমাদের মালয়েশিয়া যাওয়ার ব্যবস্থা করা হলে আমরা অনেক উপকৃত হব।’

জানা গেছে, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে ২০০৯ সালে প্রথম বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে মালয়েশিয়া। দীর্ঘ ৬ বছরের অধিক সময় বন্ধ থাকার পর ২০১৬ সালে ফের চালু হয় শ্রমবাজারটি।

দেশটি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া শুরু করলে দুই দেশে গড়ে ওঠে সিন্ডিকেট। দেশের ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠানোর দায়িত্ব পায়। কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ওই ১০ এজেন্সি সিন্ডিকেট গড়ে নানা অনিয়ম শুরু করেন। পরে দুর্নীতির দায়ে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ফের বন্ধ হয় শ্রমবাজারটি। যতবার শ্রমবাজারটি বন্ধ হয়েছে ততবার লাভবান হয়েছে কতিপয় এজেন্সি। যারা শ্রমিক পাঠানোর নামে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাই এবার শ্রমবাজার চালু হলেও শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা তৈরির বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।  

এদিকে গত চার মাস ধরে বাংলাদেশের মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছু কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। সবশেষ ৩১ মে দেশটিতে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ করা হয়। এতে বিএমইটি কার্ড ও ভিসা থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২১ হাজার অধিক বাংলাদেশি কর্মী দেশটিতে যেতে পারেননি। ৩১ মের পর যেতে না পারা এসব কর্মী ফের যাওয়ার চেষ্টা ও টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য এজেন্সিগুলোতে ঘুরছেন। টাকা ফেরত না পেয়ে এসব কর্মীর অনেকে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার অপেক্ষায় রয়েছেন।

অভিবাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়া দুই দেশের সরকারকেই শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়া সংশোধন করতে হবে। এর আগে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার তদন্ত করতে হবে। দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে উভয় দেশকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হবে।

অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো হাজার হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়ে চাকরি না পেয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের অনেকে জেলে যাচ্ছেন। অনেকে কাজ না পেয়ে হতাশা নিয়ে দেশে ফেরত আসছেন। আশা করি ড. ইউনূস এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন। এটিই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত