ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ নিয়ে বহু বছর ধরেই চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে গত ১ অক্টোবর ইরানের ২৪০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর নতুন করে আলোচনা এসেছে এটি।
ইরানের দাবি ইসরায়েলের আয়রন ডোম ফাঁকি দিয়ে তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। তবে ইসরায়েল বলছে, তারা ইরানের ছোড়া বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্রই ধ্বংস করেছে।
অন্যদিকে আয়রন ডোম কতটুকু কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করায় মনযোগ দিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত। একদিকে চীন, অন্যদিকে পাকিস্তান- দুই প্রতিবেশী দেশের হামলার আশঙ্কা সব সময়ই রয়েছে। সেক্ষেত্রে নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কি ‘শত্রু’র ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রকে রুখতে সক্ষম হবে?
দেশকে প্রতিরক্ষায় ইসরায়েলের আয়রন ডোমের মতো প্রযুক্তি ভারতের কাছেও আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এপি সিং। সাংবাদিকদের সাথে এক বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
এপি সিং বলেন, "আমরা যাই কিনি না কেন, আমাদের কাছেও আয়রন ডোমের মতো ব্যবস্থা আছে ৷ কিন্তু তা সারা দেশের জন্য যথেষ্ট নয় ৷ আমাদের আরও অনেক দরকার ৷ কী কী প্রয়োজন, তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে ৷ খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং যুদ্ধবিমান ভারতেই তৈরি করতে হবে ৷ এই বিষয়ে আমরা ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর সঙ্গে কাজ করছি ৷"
বিশ্বের চলমান অস্থিরতা নিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জগুলির দিকে তাকিয়ে অস্ত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে ভারতের স্বনির্ভর হওয়া উচিত ৷ আমাদেরও যদি এমন যুদ্ধে লড়তে হয়, তাহলে যেন জিততে পারি ৷ আমরা কয়েক জায়গায় ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য (সারফেস টু এয়ার) ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি রেখেছি ৷ কুশার মতো দূরপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্রও কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি ৷ বিপুল সংখ্যায় আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ৷ এবার আকাশ এনজি কাজে লাগানোর কথা ভাবছি ৷"
এই মুহূর্তে ভারতের দুই প্রতিবেশী দেশ চীন ও পাকিস্তানের কাছে অত্যাধুনিক ও উন্নত মানের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এছাড়া গোটা বিশ্বে হাইপারসনিক অর্থাৎ শব্দের থেকে দ্রুতগতিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে শীর্ষে রয়েছে চীন।
অন্যদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের তথ্যমতে, ভারতের কাছেও বেশ মজবুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন পৃথ্বী এয়ার ডিফেন্স বা পিএডি এবং অ্যাডভান্সড এয়ার ডিফেন্স বা এএডি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এর মধ্যে পিএডি শত্রু দেশের মিসাইলকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের আগেই ধ্বংস করে দিতে পারে। আর এএডি ধ্বংসক্রিয়া চালাতে পারে মিসাইল বায়ুমণ্ডল পেরনোর পর।
এ ছাড়া রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম কিনতে ২০১৮ সালে চুক্তি করেছে ভারত। এর মাধ্যমে চীনের কাছে থাকা হাইপারসনিক মিসাইলকে ধ্বংস করতে পারবে বলে মনে করে ভারত।
তবে অকারনে কোথাও হামলা করবে না ভারত, এমনটিও জানিয়েছেন দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এপি সিং। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অকারণে আক্রমণ করার মতো কোনো নকশা ভারতের নেই। আমরা যখন ধাক্কা খাব তখনই আমরা কিছু করব এমন পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।"
