সারাদেশের শিক্ষার্থীদের মতো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল সাইফুল ইসলাম। কিন্তু কে জানতো সে আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিছানায় শুয়ে কাতরাতে হবে। টাকার অভাবে নিতে পারছেন না চিকিৎসা।
আহত সাইফুল ইসলাম কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের দামুরপাড় গ্রামের মুন্সী বাড়ীর দিনমজুর জসীম উদ্দিন ও আয়েশা বেগম দম্পতির ছেলে। নিশ্চিন্তপুর আব্দুল গফুর ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিনি।
আহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১০ জুলাই ঢাকায় গুলশানে বোনের বাসায় বেড়াতে যায় সাইফুল ইসলাম। ১৯ জুলাই সকালে স্থানীয় ইমনসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগদেন তিনি। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে পাঁচতালা ভাটারা থানার পাশে ক্যামব্রিয়ান কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই সময় বিপরীত দিক থেকে পুলিশের ছোড়া গুলিতে বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন সাইফুল। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
পরে ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপশম হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। পরে এ এম জেড হাসপাতালে নিয়ে যান। ২২ জুলাই বাড্ডার পপুলার হাসপাতালে ডাক্তার দেখানো হয়। পরে ডাক্তারের পরামর্শে বনানী ক্লিনিকে অপারেশন করে গুলি বের করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।
আহত সাইফুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার বড় ভাইদের সাথে ছাত্র আন্দোলনে যাই। আন্দোলনে পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হই। পরে ছাত্ররা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। পাশাপাশি আমার বাবাকে ফোন দেন। বাবা তখন বাড়িতে ছিলেন। বাবা খবর পেয়ে বড় বোন জারমিন সোলতানাকে ফোন দেন। পরে বোন আর বোনের জামাই আসেন। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। পা নিয়ে অনেক কষ্ট পাচ্ছি। ডাক্তার বলছেন এভাবে চার মাস রাখতে হবে। সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাইনি। দলীয় কোনো নেতাও দেখতে আসেনি।
আহত সাইফুলের বাবা জসীম উদ্দিন বলেন, ১৯ জুলাই সাইফুল ফোন করে জানায় পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এএম জেড হাসপাতালে আছে। সঙ্গে সঙ্গে আমার মেয়ে ও জামাতাকে হাসপাতালে পাঠাই। হরতাল ও কারফিউ থাকায় ঢাকা যেতে পারিনি। কী করবো বুঝতে পারছিলাম না। পরে ২২ জুলাই ১০ হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে ঢাকা যাই। এএম জেড হাসপাতাল থেকে তাকে পপুলার হাসপাতালে ডাক্তার দেখাই। ডাক্তারের পরামর্শে বনানী ক্লিনিকে অপারেশন করে গুলি বের করা হয়। তার বাম পায়ের হাড়ে ভেঙে গেছে। সকল সঞ্চয় ও ঋণ নিয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।
তিনি আরও বলেন, বাড়ি এসে দেখি বন্যায় ডুবে ঘরের ধান, চাল সব নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা এখন কী খাব, কীভাবে ছেলে চিকিৎসা করাবো। পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। আমি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষেয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার লাকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা আমার কাছে আবেদন করলে সহযোগিতা করবো।
আলী রীয়াজের নেতৃত্বে সংবিধান সংস্কার কমিশনে যুক্ত হলেন যারা
কাউন্সিলরের দায়িত্বে চসিকের ১৩ কর্মকর্তা
অবশেষে কুদস ফোর্স প্রধানের খবর জানাল ইরান
ইজিবাইকের মোটরে কাপড় জড়িয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু পিয়ালির
পুঁজিবাজার সংস্কারে ৫ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন