দেশে এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে শূন্য থেকে ১৫ বছর বয়সী ২৫ শিশু মারা গেছে। এই সংখ্যা মোট মৃত্যুর ১৩ শতাংশ। এ বছর এখন পর্যন্ত রোগটিতে মারা গেছে ১৮৮ জন।
অন্যদিকে, এ বছর একই বয়সী শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৭১৫ জন, যা মোট আক্রান্তের ১৮ শতাংশ। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে ৩৭ হাজার ৮০৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুর তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ২১৮ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। রোগীর এই সংখ্যা এ বছর এখন পর্যন্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২২৫ রোগী পাওয়া যায় গত ৬ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ২২১ রোগী ভর্তি হয় ২৯ সেপ্টেম্বর। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুজন মারা গেছে। তাদের একজন ২৬-৩০ বছর বয়সী পুরুষ ও অন্যজন ৪৬-৫০ বছর বয়সী নারী। মৃতদের একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ও অন্যজন বরিশাল বিভাগে ভর্তি ছিলেন।
নতুন রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৫৬ জন ঢাকা উত্তর সিটিতে ও সবচেয়ে কম দুজন সিলেট বিভাগে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৫৪, চট্টগ্রামে ২২১, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৬৯ ও বরিশালে ১০২ জন ভর্তি হয়েছে। এরপর খুলনায় ভর্তি হয়েছে ৯১, রাজশাহীতে ৬৮, রংপুরে ৩৪ ও ময়মনসিংহে ২১ জন।
এ মাসে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ২৫ জন ও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ৮৭০ জন।
মৃত্যু ও আক্রান্তে তরুণরা সর্বোচ্চ : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ বছর সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৬-৪০ বছর বয়সী তরুণ ও যুবকরা ২২ হাজার ৮৯১ জন, যা মোট রোগীর ৬১ শতাংশ এবং মৃত্যুও এই শ্রেণির মধ্যে বেশি ৮২ জন, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে শূন্য থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু। কিন্তু দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মারা গেছে ৪১-৬০ বছর বয়সী ৪৮ জন, যা মোট মৃত্যুর ২৬ শতাংশ। এই শ্রেণির মানুষ আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৪২৮ জন, যা মোট আক্রান্তের তৃতীয় সর্বোচ্চ।
