তথ্য উপদেষ্টা বললেন

অংশীজনের পরামর্শ নিয়ে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:৫৭ এএম

অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠনের জন্য সব পক্ষের সঙ্গে বসা শেষ হয়নি। মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিকসহ অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে বসে পরামর্শ নিয়ে কমিশন গঠন করা হবে।’

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সংবাদমাধ্যমের সংস্কার কেন, কীভাবে?’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। ‘মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্ক’ এবং ‘আইন ও বিচার’নামে দুটি প্ল্যাটফর্ম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বসা হয়েছে। আজকের এ আলোচনাটাও এক ধরনের ইনসাইট দেবে। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বসতে হবে। সব পক্ষের সঙ্গে বসে তাদের একটা পরামর্শ নিয়ে আমরা সবাই সংস্কার কমিশনটা ঘোষণা করতে পারব।’

সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ডসহ বেতনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে দাসসুলভ আচরণের সুযোগ নেই। সাংবাদিকরা কেন পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে পারেন না, সেসব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। গণমাধ্যমে পেশাদারিত্বের সংস্কৃতি বাংলাদেশে অনুপস্থিত। অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে কাজ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার অল্প সময়ের দায়িত্বের অভিজ্ঞতায় সাংবাদিকতা নিয়ে আমি যেটি বুঝেছি সেটা হচ্ছে এখানে নানামুখী স্টেকহোল্ডার ও পরস্পরবিরোধী পক্ষ রয়েছে। যাদের সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে ও ঐকমত্যে আসতে হবে। যখন ওয়েজ বোর্ডের কথা আসে, তখন সম্পাদক ও মালিকরা ওয়েজ বোর্ডের বিরোধিতা করেন। আবার অনেক সময় বিভিন্ন হাউজ থেকে বেতন পরিশোধ করা হয় না।’

মুক্ত আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. সাইফুল আলম চৌধুরী প্রমুখ। মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক জিমি আমির।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘উপদেষ্টা সংস্কার কমিশন নিয়ে কথা বলেছেন। আমাদের তরফ থেকে আমরা বলতে চাই, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মিডিয়া ফ্রিডম, প্রেস ফ্রিডম নিয়ে আমরা কোনো জায়গায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করব না। আপনারা দেখেছেন প্রায় দুই মাস এ সরকার ক্ষমতায় এসেছে, কোথাও কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হয়নি। আমি মনে করি, গত দুই মাস ছিল গোল্ডেন পিরিয়ড।’

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব আরও বলেন, প্রথাগত ‘অ্যাকটিভিজমের’ জায়গাগুলো ব্যর্থ হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা সাংবাদিকদের সামনে রেখে বারিধারা, পূর্বাঞ্চল, উত্তরায় প্লট নিয়েছেন। তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য ‘আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা’ নিয়েছেন। ‘আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা’ নিয়ে তারাই আবার সাংবাদিকদের শোষণ করেছেন। তারা নিজের স্বার্থ দেখেছেন। তাই যেসব সাংবাদিক পথেঘাটে খাটেন, তাদের ‘অ্যাকটিভিজম’ করতে হবে।

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘আমরা সাংবাদিকতাকে বলি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। কিন্তু এই স্তম্ভের খেয়াল তো আমরা করিনি। আমাদের বিচার বিভাগ, আমাদের প্রশাসন সেগুলোর দিকে মনোযোগ ছিল। কিন্তু আমরা এমন এক ট্রেন যে, সবার দিকে লাইট ফেলি কিন্তু নিজের দিকে আমাদের লাইটটা পড়ে না। আমরা নিজেরা নিজেদের অন্ধকারে রেখেছিলাম। আমরা জনগণের কণ্ঠস্বর, এগুলো আমরা বলি কিন্তু আমরা কি এর আগে নিজেদের নিয়ে এভাবে কথা বলেছি?’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত