চিকিৎসায় নোবেল ২০২৪

এমআরএনএ গবেষণায় স্বীকৃতি দুই বিজ্ঞানীর

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:২৯ এএম

নোবেল পুরস্কারকে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিবছর পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্য এই শাখায় বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের এই পুরস্কার প্রদান করে রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স। পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্য এই পাঁচটি খাতে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। রীতি অনুযায়ী প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার থেকে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়। সে ধারাবাহিকতায় সুইডেনের স্টকহোমে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শরীরতত্ত্বে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়েছে। এ বছর চিকিৎসাবিজ্ঞান শরীরতত্ত্বে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিজ্ঞানী ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রাভকুন।

মাইক্রোআরএনএ আবিষ্কার ও জিন নিয়ন্ত্রণে ট্রান্সক্রিপশন পরবর্তী সময়ে ভূমিকাবিষয়ক গবেষণার জন্য তারা এই পুরস্কার পেয়েছেন। সুইডেনের নোবেল অ্যাসেমব্লি অ্যাট ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট জানায়, তাদের গবেষণা কোনো প্রাণীর দেহ গঠন ও কীভাবে সেটি কাজ করে তা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বহুকোষী প্রাণীর দেহে কীভাবে জিন নিয়ন্ত্রণ হয়, সে বিষয়ক ধারণার খোলনলচে বদলে দিয়েছে তাদের এই গবেষণা।

গত শতকের ষাটের দশকেই বিজ্ঞানীরা ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর নিয়ে গবেষণা করছিলেন। ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশে যুক্ত হয়ে কোনো অংশ থেকে মেসেঞ্জার আরএনএ তৈরি হবে তা নির্ধারণ করে দেয় ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর। বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, এটিই জিন নিয়ন্ত্রণের মূল উপায়। আশির দশকে ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রাভকুন কীভাবে বিভিন্ন ধরনের কোষ তৈরি হয় তা নিয়ে গবেষণা করছিলেন। ১৯৯৩ সালে এই দুই বিজ্ঞানী জিন নিয়ন্ত্রণের নতুন এক উপায় আবিষ্কার করেন। তাদের যুগান্তকারী এই আবিষ্কার ১৯৯৩ সালে সেল জার্নালে দুটি নিবন্ধে প্রকাশিত হয়। প্রায় তিন দশক ধরে গবেষণার পর মাইক্রোআরএনএ আবিষ্কার ও জিন নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে নতুন এই মাইলফলকের দেখা পান তারা। মানুষের জিনোম এক হাজারেরও বেশি মাইক্রোআরএনএ তৈরির নির্দেশনা বহন করে। বহুকোষী প্রাণীদের বৃদ্ধি ও কাজে মাইক্রোআরএনএর ভূমিকা অপরিহার্য। নতুন মাইক্রোআরএনএ খোঁজার পাশাপাশি একটি মাইক্রোআরএনএ কীভাবে আরেকটি আরএনএতে যুক্ত হয়ে এর কাজ নিয়ন্ত্রণ করে সেটিও বের করেছেন নোবেল বিজয়ী দুই চিকিৎসাবিজ্ঞানী। তাদের গবেষণা থেকে জানা যায়, একটি মাইক্রোআরএনএ অনেক জিনের ওপর কাজ করতে পারে। আবার একটি জিনের ওপরও কাজ করতে পারে অনেক মাইক্রোআরএনএ।

১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের হ্যানোভারে জন্ম ভিক্টর অ্যামব্রোসের। তিনি ১৯৭৯ সালে এমআইটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। আরেক বিজ্ঞানী গ্যারি রাভকুনের জন্ম ১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বার্কলিতে। তিনি ১৯৮২ সালে হার্ভার্ড থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। এ বছরের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীরা অর্থ পুরস্কার হিসেবে মোট ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা পাবেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্যমান সাড়ে ১২ কোটি টাকার বেশি। সেই সঙ্গে স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল কমিটি থেকে সনদ পাবেন বিজয়ীরা। যৌথভাবে বিজয়ী হওয়ায় পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি হয়ে যাবে দুই বিজ্ঞানীর মধ্যে। তহবিলের উন্নতি হওয়ায় এ বছর পুরস্কারের আর্থিক সম্মানী পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নোবেল ফাউন্ডেশন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত