রাঙ্গামাটিতে আতঙ্ক কাটিয়ে উৎসবের প্রস্তুতি

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৫৫ এএম

রাঙ্গামাটি শহরের ত্রিপুরাপল্লী গর্জনতলী। ক্ষুদ্র জাতিসত্তার এই জনগোষ্ঠীর মানুষ সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী। আর তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে গর্জনতলীর অখ-ম-লী মন্দিরে গতকাল ছিল শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। তুলির আঁচড় পড়েছে প্রতিমার গায়ে। পাহাড়ে সম্প্রতি পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতের কারণে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এই পল্লীতে রয়েছে আতঙ্ক। তবে আতঙ্ক কাটিয়ে প্রশাসনের নিরাপত্তার আশ্বাসে সাড়ম্বরে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী গর্জনতলী অখ-ম-লী দুর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ত্রিপুরা বলেন, ‘পাহাড়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর জন্য আমাদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। প্রশাসন যদি সহযোগিতা করেন, তবে আমরা সুন্দরভাবে পূজা উদযাপন করতে পারব। প্রশাসন নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের আশ্বাস দিয়েছে। আশা করছি, গোলযোগ ছাড়াই পূজা শেষ করতে পারব।’

গীতাশ্রম দুর্গোৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাজু প্রসাদ দে বলেন, ‘সবার মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও সেটা আস্তে আস্তে কেটে যাচ্ছে। প্রশাসনও যথেষ্ট তৎপর নিরাপত্তার বিষয়ে। আমরা আশাবাদী এবারের পূজায় কোনো ধরনের সমস্যা হবে না ।’

পাহাড়ে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে এবার পূজার বাজেটে প্রভাব পড়েছে বলে জানান আয়োজকরা। তারা বলেন,  অন্যান্য বছর জেলা পরিষদ থেকে সহযোগিতা পেলেও এবার তা পাওয়া যায়নি। এতে সব মণ্ডপে পূজা আয়োজনে বেগ পেতে হচ্ছে।

জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ৪৪টি ম-পে দুর্গাপূজা হচ্ছে। আজ বুধবার থেকে দুর্গাপূজা শুরু হয়ে ১৩ অক্টোবর শেষ হবে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমলেন্দু হাওলাদার বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনার কারণে রাঙ্গামাটিতে কিছুটা আতঙ্ক কাজ করলেও প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক নেতাসহ সবার আশ্বাস ও সহযোগিতায় আশা রাখছি, কোনো সমস্যা ছাড়াই পূজা শেষ করতে পারব।’

নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রতিটি পূজাম-পে তিনস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। পুলিশ, আনসার ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া প্রতিটি ম-পে সিসি ক্যামেরা থাকবে। আশা করছি, সুন্দর ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপন হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত