বাগাতিপাড়া

বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, প্রতিরোধে নেই কার্যকর পদক্ষেপ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৪, ০২:০৫ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনিকভাবে কোনো আগাম কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উপজেলায় সংক্রমণ প্রতিরোধে জনমনে প্রচারণা ও প্রয়োজনীয় তেমন কোনো ব্যবস্থা এখনো লক্ষ্য করা যায়নি।

এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও কোনো ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সতর্কতামূলক প্রচারণার পদক্ষেপও লক্ষ্য করা যায়নি। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে হাসপাতালে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা য়ায়, জানুয়ারির ২০২৩ থেকে অক্টোবরের ২০২৪ পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৪ এর আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে ডেঙ্গু রোগীদের বেশির ভাগই বাইরের এলাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে আসছেন। অনেকেই পজেটিভ হওয়ার পর প্রাইভেট ক্লিনিক, জেলা বা বিভাগীয় শহরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের প্যাথলজি ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালে আক্টোবর থোকে ২০২৪ এর জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী পরীক্ষার ডিভাইস(কীট) না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই ৯ মাসে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়নি। কিন্তু ২০২৪ এর জুলাই মাস থেকে থেকে সর্বশেষ ৯ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগে ১৫৫ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক কোনো ধরনের প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং মশক নিধনে নেওয়া হয়নি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। পৌরসভা ও ইউনিয়ন সবখানেই ঝোপঝাড় ও জলাবদ্ধতা রয়েছে। এসব স্থানকে মশার প্রজননকেন্দ্র হিসেবে ধরা যায়। তাই দ্রুতই মশক নিধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত পাঁকা রামপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাক (৫০) ও চিথলিয়া এলাকার মরিয়ম খাতুম (৯) জানান, গত ৩-৪ দিন শরীরে প্রচন্ড জ্বর, মাথা ব্যাথা ও বমি নিয়ে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। ডাক্তারের পরামর্শ ডেঙ্গু পরীক্ষার পর তারা পজিটিভ জানতে পারেন। তবে এখন তারা আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থবোধ করছেন।

উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী জানান, তার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা বা প্রতিরোধ মূলক কোনো ধরনের প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং মশক নিধনে নেওয়া হয়নি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এএসএম লেলিন জানান, তার ইউনিয়নেই ডেঙ্গু নিধন বা বিস্তার রোধে কখনো কোনো রকম পদক্ষেপ বা প্রচার প্রচরণা গ্রহণ করা হয়নি। তবে তারা বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেম্বারদের নিয়ে মিটিং করে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শের কথা জানিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে হাসপাতালে। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় কীট, আলাদা ওয়ার্ডসহ সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সবখানে প্রচারণা চালানো প্রয়োজন যাতে সবাই ডেঙ্গু নিয়ে সতর্ক হন। সেক্ষেত্রে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা ও নর্দমায় নোংরা পানি বা জলাবদ্ধতা না থাকে, তার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনামিকা নজরুল বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতিমধ্যে পৌর এলাকায় কিছু ওষুধ ছিটানো হয়েছে। ওষুধ ছিটানোর একটি মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। মেশিনটি মেরামতের জন্য রাজশাহী পাঠানো হয়েছে। সেটি হাতে পেলে পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানো হবে।

উপজেলাব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি করতে সকল ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত