গত ৯ মাসে অনাদায়ি ঋণ থেকে ৮০০ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। সম্প্রতি এই তথ্যটি জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. তৌহিদুল আলম খান। ন্যাশনাল ব্যাংকের এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে ব্যাংকের বর্তমান এমডি ও সিইওর নেতৃত্বে। তিনি চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
প্রসঙ্গত, সাবেক চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের সময় থেকেই মূলত ন্যাশনাল ব্যাংক উচ্চমাত্রার অনাদায়ি ঋণ এবং তারল্য সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে আট মাসের মধ্যে পর পর তিনবার পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্তও ব্যাংকের পরিচালনায় জটিলতা বৃদ্ধি করেছে।
তবে ন্যাশনাল ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল মিন্টুর নেতৃত্বে অর্থনৈতিক অবস্থান উন্নয়নে এর ভূমিকা পুনরুদ্ধারে নতুন আশা জাগিয়েছে। ব্যবস্থাপনার কৌশলগত প্রচেষ্টার ফলে উল্লেখযোগ্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ঋণ সফলভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ ও কর্ণফুলী গ্রুপ উল্লেখযোগ্য। মো. তৌহিদুল আলম খান ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশাবাদী।
ব্যাংকটির শীর্ষ ১০০ ঋণগ্রহীতা মূলধনের ১০ শতাংশেরও বেশি এবং শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতা শ্রেণিবদ্ধ ঋণের ৬৬ শতাংশ ধারণ করছে। এসব আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে সাময়িক তারল্য সহায়তার জন্য অনুরোধ করছে।
আর্থিক পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে, ন্যাশনাল ব্যাংক ২০২৪ সালের জুন মাসে ৭৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা অনিরীক্ষিত মুনাফার প্রতিবেদন করেছে।
প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে সাফল্যের পাশাপাশি ন্যাশনাল ব্যাংক চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬৮ কোটি মার্কিন ডলার দেশে এসেছে, যা ১৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংক তিনটি আকর্ষণীয় আমানত পণ্য ‘ট্রিপল বেনিফিট স্কিম’ ‘প্রয়োজন’ ও ‘নিশ্চিন্ত অবসর’ প্রবর্তন করেছে। নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ব্যাংকটি ‘এনবিএল জোনাকি’ নামে আরও একটি বিশেষ আমানত পণ্য চালু করার পরিকল্পনা চলছে। মো. তৌহিদুল আলম খান বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কঠোর হিসাবরক্ষণ এবং অতীতের অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা টাকার উৎস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করব এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নেব।’
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট পরিচালনা পর্ষদ তৃতীয়বারের মতো পুনর্গঠন করা হয়, যার ফলে আবদুল আওয়াল মিন্টুকে পরিচালনা পর্ষদের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সাতজন পরিচালক নিয়োগ করেছে, যার মধ্যে তিনজন উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের প্রতিনিধি এবং চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক। বিজ্ঞপ্তি
