আওয়ামী আইনজীবীদের মিছিল

হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি সারজিস হাসনাতের

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:০১ এএম

হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দুই সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ ঘোষণা দেন তারা। আজ বুধবার বেলা ১১টায় এ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। ‘আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট বিচারকদের’ পদত্যাগের দাবিতে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এ দুই সমন্বয়ক।

এর আগে গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই প্রথম আদালত এলাকায় দলটির সমর্থক আইনজীবীরা প্রথম প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করলেন। তারপর রাতে হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেন সারজিস ও হাসনাত।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতিদের ‘দলবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।

হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট বিচারকদের পদত্যাগের দাবিতে আগামীকাল (আজ) সকাল ১১টায় হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি।’ ওই পোস্টের কমেন্ট বক্সে হাসনাত লিখেছেন, ‘যে লীগের হাতে হাজার হাজার ছাত্র ও নাগরিকের রক্ত লেগে আছে। দুই মাস না যেতেই তাদের কীভাবে দুঃসাহস হয় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে খুনি হাসিনার নামে স্লোগান দেওয়ার?’

নিজের ফেসবুক পেজে একই ধরনের স্ট্যাটাস দেন সারজিস আলম। ওই পোস্টের কমেন্ট বক্সে তিনি লেখেন, ‘এই খুনি হাসিনার দালালদের কারণেই রাষ্ট্র ঠিকমতো ফাংশন করতে পারছে না। এদের উৎখাত না করা পর্যন্ত দেশ সামনে আগাতে পারে না, পারবে না।’

গতকাল সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী লে. কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত মুহাম্মদ ফারুক খান এবং ড. আব্দুর রাজ্জাকের রিমান্ড আবেদন শুনানির সময় তারা এ মিছিল বের করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘শেখ হাসিনার দরকার, বারবার দরকার’; ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’; ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’সহ নানা স্লোগান দেন। তারা সম্প্রতি রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োগ আইনজীবীর নিয়োগ বাতিলেরও দাবি জানান।

২০-২৫ জন আইনজীবী ওই মিছিলে অংশ নেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ সময় মিছিলটি থেকে একজনকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

এদিন ফারুক খান ও ড. আব্দুর রাজ্জাকের জামিন আবেদন নাকচ করে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

কোতোয়ালি থানার ওসি এনামুল হক খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণের মিছিল থেকে নাহিদ হোসেন নামে সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের এক আত্মীয়কে আটক করা হয়েছে। তবে অন্য বিক্ষোভকারীরা পালিয়ে গেছে। এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত