যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর কিছুদিন বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। কয়েকটি রাজ্যে গতমাসেই আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আর এ সপ্তাহে আগাম ভোট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান রাজ্য জর্জিয়ায়। খবর রয়টার্স।
৭ টি গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান রাজ্যের একটি জর্জিয়া। সেখানে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ভোটাররা সশরীরে ভোট দেওয়া শুরু করেছেন। তারা ব্যালটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট কে হবেন সে সিদ্ধান্ত জানাবেন। তাছাড়া, রাজ্য এবং স্থানীয় নির্বাচনী প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ভোটাররা তাদের রায় দেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৫ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ছেন দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিস এবং তার প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প। দুইজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ডিকালব কাউন্টির নির্বাচন পরিচালক স্মিথ বলেন, ‘আমরা ঐতিহাসিক ভোটার উপস্থিতির জন্য প্রস্তুত। আমরা জানি এটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং সেভাবেই আমরা নির্বাচনকর্মীর ব্যবস্থা করেছি।”
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিনে ভোটারদের লম্বা লাইন এড়াতেই মূলত ভোটারদেরকে এই আগাম ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা। বহু ভোটারই নির্বাচনের দিনে ভিড় এড়াতে আগাম ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
আগাম ভোটে ভোটাররা মঙ্গলবার সকাল ৭ থেকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া শুরু করতে পারবেন এবং এই ভোটগ্রহণ চলবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। নির্বাচন পরিচালক স্মিথ বলেন, ‘ভোট দেওয়ার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।’
জর্জিয়ায় দেশের সবচেয়ে বেশি কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার আছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে এই কৃষ্ণাঙ্গ ভোটের জোরেই জয় পেয়েছিলেন জো বাইডেন। এবারের নির্বাচনে কমলা হ্যারিসও কৃষ্নাঙ্গ ভোট দলে টানার চেষ্টা করছেন। যদিও এই শ্রেনির মধ্যে তিনি স্পষ্টতই জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন। তবে ৫ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এই ভোটারদের আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন বলেই মনে করছে হ্যারিসের প্রচারশিবির।
এ সপ্তাহে যে কেবল জর্জিয়াতেই আগাম ভোট হবে তা নয়, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান রাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনাতেও আগাম ভোট হবে। কিন্তু আইনসভায় বেশকিছু পরিবর্তন এবং হারিকেন হেলেনের ধাক্কার পর আগামী কয়েক সপ্তাহে অনেক ভোটারেরই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যেতে পারে।
জর্জিয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আর নর্থ ক্যারোলাইনায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে আগামী বৃহস্পতিবার। দোদুল্যমান এই রাজ্যগুলোর ভোটই নির্ধারণ করে দিতে পারে একজন প্রার্থীর জয়-পরাজয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শক্তিশালী দুটি দলের প্রভাব রয়েছে বেশিরভাগ রাজ্যেই। কিছু রাজ্য রিপাবলিকানদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত;যেগুলোতে ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান প্রার্থীই জয়ী হন। আর কিছু রাজ্য ডেমোক্র্যাটদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত; যেগুলোতে বরাবরই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয়ী হন।
তবে এর বাইরে কিছু রাজ্য আছে যেগুলোতে দুই দলের কারও একচ্ছত্র প্রভাব নেই, বরং দুই দলেরই জনসমর্থন একইরকম। হাতে গোনা এসব রাজ্যের ভোট যে কোনও প্রার্থীর ঝুলিতে যেতে পারে। এ রাজ্যগুলোই সুইং স্টেট (দোদুল্যমান রাজ্য) নামে পরিচিত।
জয়-পরাজয় নির্ধারণী এই রাজ্যগুলো হল--অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, মিশিগান, নেভাডা, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভেইনিয়া ও উইসকনসিন।
এসব রাজ্যের আগে গত ২০ সেপ্টেম্বরে প্রথম আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয় ভার্জিনিয়া, মিনেসোটা এবং সাউথ ডাকোটায়। ৫ নভেম্বরে দেশের বাদবাকী অংশে ভোটগ্রহণ শুরু আগে অক্টোবরের মধ্যে আগাম ভোট হয়ে যাবে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নেব্রাস্কা এবং ভারমন্ট পর্যন্ত।
