অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন বরিশাল পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরসহ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার আন্দোলন চালানোর জন্য ২২৫ কোটি টাকা চাঁদা তোলার অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। কমিশন গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে।
অনুসন্ধান টিম গঠনের বিষয়ে দুদকের উপরিচালক মো. হাফিজুর রহমানের সই করা নোটিসে বলা হয়েছে, বরিশাল পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জিএম প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর, বি-বাড়িয়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জিএম আসাদুজ্জামান, মানিকগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সামিউল কবীর ও বিপাশা ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জিএম রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, ঘুষগ্রহণ ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হলো। অনুসন্ধানকালে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ বা সম্পদ জব্দ করা হলে তা দ্রুত লিখিতভাবে শাখাকে জানাতে অনুরোধ করা হলো।
জানা গেছে, চলতি বছরের অক্টোবরে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে। গত ১৪ অক্টোবর কমিশন অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা ও উপসহকারী পরিচালক মো. শাহজালাল।
দুদকের সূত্র জানিয়েছে, পল্লীবিদ্যুতের কয়েকজন কর্মকর্তা গ্রিড রক্ষণাবেক্ষণের নামে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে দেশের জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়া ও ব্যবসায়ীদের লোকসানের মুখে ফেলে সরকারবিরোধী মনোভাব চাঙা করতে কাজ করেন। তাদের বিরুদ্ধে সিস্টেম লস দেখিয়ে গ্রাহকদের মিটার রিডিং কয়েক গুণ বাড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নেওয়া এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আন্দোলনকারীদের মাঠে নামাতে আর্থিক সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য সময় বেঁধে দিয়ে স্টেশনত্যাগের কথা জানালেও পরে সরকারকে না জানিয়ে গণছুটিতে যাওয়া ও সারা দেশে একযোগে বিদ্যুৎসেবা বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছেন পল্লীবিদ্যুতের সমন্বয়কারীরা। তারা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করে সারা দেশে তাদের সমর্থক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা, জুম মিটিং ও দিকনির্দেশনামূলক অভিমত দিয়ে যাচ্ছেন। পল্লীবিদ্যুতের লাইনম্যানদের চাকরি স্থায়ীকরণের নামে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। টাকার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তারা আন্দোলনের নামে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ষড়যন্ত্র করছেন।
অভিযোগে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার এ চেষ্টা দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সরকারকে অস্থিতিশীল করতে পল্লীবিদ্যুতের সমন্বয়কারীরা দেশের ৮০টি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে ২২৫ কোটি টাকা চাঁদা সংগ্রহ করেছেন। আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন মুন্সীগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির এজিএম রাজন কুমার দাসের নেতৃত্বে এজিএম রাজিবুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম বিপাশা ইসলাম ও এজিএম মাহবুব আলম, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান, লাইনম্যান এনামুল কবিরসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ অর্থ সংগ্রহ করেন। এ অর্থ ব্যবহার করে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘœ ঘটিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
বলা হয়, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। মানিকগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম বিপাশা ইসলাম, এজিএম (ইএন্ডসি) মাহমুদুল হক ও হাসিবুল এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার জামাল উদ্দীন গত পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি টাকা আয় করেছেন। বিপাশা ইসলাম পূর্বাচলে প্লট কিনেছেন। মাহমুদুল হক ও হাসিবুল ইসলাম বসুন্ধরায় ফ্ল্যাট কিনেছেন। জামাল উদ্দীন সাভারে জমি কিনেছেন।
